শীতের আগেই সুস্থ থাকতে খাবার, ত্বক ও মনের যত্ন নিন

ভোরের হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের আগমনের কথা। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে ঠান্ডা-কাশি, ত্বকের শুষ্কতা ও নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি কারও কারও মধ্যে দেখা দিতে পারে মন খারাপ বা বিষণ্নতার প্রবণতা। তাই শীত পুরোপুরি আসার আগেই খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ত্বকের যত্ন ও মানসিক সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
রোগ প্রতিরোধে পুষ্টিকর খাবার
শীতের শুরু থেকেই খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি শাকসবজি ও ফল। ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, গাজর, পালংশাক ও কমলার মতো ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সচল রাখতে সহায়তা করে।
প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের স্যুপ ও পুষ্টিকর পানীয়ও রাখা যেতে পারে। ভেষজ চা কিংবা কুসুম গরম দুধ শীতের সময়ে আরাম দিতে পারে। তবে শরীরের পানির চাহিদা পূরণে নিয়মিত পানি পান করাও জরুরি। ঠান্ডার কারণে তৃষ্ণা কম অনুভূত হলেও পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানির চাহিদা বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে।
ত্বক ও চুলের যত্নে সতর্কতা
শীতের শুষ্ক বাতাস ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া কিংবা চুল শুষ্ক হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
এসব সমস্যা কমাতে স্নানের পর ত্বকে ময়শ্চারাইজার বা উপযোগী লোশন ব্যবহার করুন। ঠোঁটের সুরক্ষায় লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে পারেন। অতিরিক্ত গরম পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি দিয়ে স্নান করা ভালো। ত্বক ও চুলের ধরন অনুযায়ী যত্নের পণ্য বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
অলসতা এড়িয়ে শরীরচর্চা করুন
শীতের সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে অনেকেরই অনীহা কাজ করে। তবে সুস্থ থাকতে নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম কিংবা যোগব্যায়াম শরীর সচল রাখতে সহায়তা করে।
সুযোগ থাকলে দিনের আলোয় কিছু সময় বাইরে কাটান। সূর্যালোক শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা হাড়ের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রয়োজনীয় সময় নির্ভর করে ত্বকের ধরন, অবস্থান, ঋতু ও সূর্যালোকের তীব্রতার ওপর। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে ত্বকের সুরক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
শীতকালীন বিষণ্নতা এড়াতে মনের যত্ন
শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় কিছু মানুষের ঘুম, মেজাজ ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি মৌসুমি বিষণ্নতা বা ‘সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে শীতকালে মন খারাপ হলেই সেটিকে এই রোগ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
মন ভালো রাখতে ঘরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের ব্যবস্থা করুন। সুযোগ পেলে বাইরে হাঁটুন, বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। বই পড়া, গান শোনা, পছন্দের কাজে অংশ নেওয়া কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়াও মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে।
এর পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়।
মন খারাপ বা বিষণ্নতা দীর্ঘস্থায়ী হলে, দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে কিংবা ঘুম ও খাবারের অভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শীত উপভোগ করতে হলে শরীর ও মনের যত্ন দুটিই জরুরি। সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, ত্বকের পরিচর্যা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুললে ঋতু পরিবর্তনের সময়টুকু আরও স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব।