বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী গ্রেপ্তার আইনের শাসনে ১৪৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম, দুর্বল মৌলিক অধিকার চুলের যত্নে চাল ধোয়া পানি কতটা কার্যকর, কী বলছে বিজ্ঞান? আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হার, ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ থেকে বিদায় বাংলাদেশের পূজার পর স্বর্ণের দামে স্বস্তি, ভরিতে কমল সর্বোচ্চ ১,৬৯১ টাকা ‘ভারতের মুসলিমদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’: নাহিদ ইসলাম গোপনে বিয়ে করে তালাক হলে তা কি সবার কাছে প্রকাশ করতে হবে? দুর্গাপূজার ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা, যানজট ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন নগরবাসী ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আগামী মাসে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় সম্মতি পুতিনের সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী
  • চুলের যত্নে চাল ধোয়া পানি কতটা কার্যকর, কী বলছে বিজ্ঞান?

    চুলের যত্নে চাল ধোয়া পানি কতটা কার্যকর, কী বলছে বিজ্ঞান?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চুল লম্বা, ঘন ও উজ্জ্বল করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রাইস ওয়াটার বা চাল ধোয়া পানি। অনেকেই দাবি করেন, নিয়মিত এটি ব্যবহার করলে চুলের বৃদ্ধি বাড়ে, চুল পড়া কমে এবং চুল হয়ে ওঠে মসৃণ ও শক্তিশালী। তবে এসব দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত। রাইস ওয়াটার চুলের বাহ্যিক গঠন ও অনুভূতিতে কিছুটা উন্নতি আনতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি নতুন চুল গজায় বা চুল পড়া বন্ধ করে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

    রাইস ওয়াটার কী এবং কেন ব্যবহার করা হয়?

    চাল পানিতে ভিজিয়ে রাখার বা সেদ্ধ করার পর যে শ্বেতসারযুক্ত পানি পাওয়া যায়, সেটিই রাইস ওয়াটার। এতে অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকতে পারে। তবে চাল, পানির পরিমাণ এবং তৈরির পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এর উপাদানের পরিমাণ ও গঠন পরিবর্তিত হয়।

    রাইস ওয়াটারে ইনোসিটল নামে একটি উপাদানও থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত চুলের ওপর এর সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক প্রভাব নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইনোসিটল চুলের ঘর্ষণ কমাতে এবং চুল সামলানো সহজ করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঘরে তৈরি চাল ধোয়া পানি ব্যবহার করলে একই ফল পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল গবেষণা নেই।

    এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চুলের পরিচর্যায় চাল ধোয়া পানি ব্যবহারের ঐতিহ্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে মূলত চুল লম্বা করা, ঘনত্ব বাড়ানো এবং চুল ভাঙা কমানোর দাবি ঘিরে।

    রাইস ওয়াটার কি চুল দ্রুত বাড়াতে পারে?

    রাইস ওয়াটার সরাসরি চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় বা চুলের গোড়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, বয়স, পুষ্টি ও সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর।

    আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন এবং মাথার ত্বকের বিভিন্ন রোগের কারণেও চুল পড়তে পারে। এসব ক্ষেত্রে শুধু রাইস ওয়াটার ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান আশা করা ঠিক নয়।

    তবে চাল ধোয়া পানি চুলের ওপর একটি সাময়িক আস্তরণ তৈরি করে চুলকে মসৃণ অনুভব করাতে পারে। এতে আঁচড়ানোর সময় ঘর্ষণ কমতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে চুল ভাঙার প্রবণতা কমতে পারে। ফলে চুলের দৈর্ঘ্য ধরে রাখা সহজ হতে পারে।

    এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—চুল ভাঙা কমানো আর চুলের গোড়া থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া এক বিষয় নয়। রাইস ওয়াটার ব্যবহারে চুলের বাহ্যিক অবস্থা কিছুটা ভালো মনে হলেও তা নতুন চুল গজানোর প্রমাণ নয়।

    যাদের চুল ক্রমাগত পাতলা হচ্ছে, অতিরিক্ত চুল পড়ছে বা মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাক দেখা দিচ্ছে, তাদের ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    বাড়িতে কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করবেন?

    রাইস ওয়াটার তৈরির জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। সাধারণ চাল ও পরিষ্কার পানি দিয়েই এটি তৈরি করা যায়।

    ১. দুই থেকে তিন টেবিল চামচ চাল ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

    ২. চালের সঙ্গে এক থেকে দুই কাপ পরিষ্কার পানি মিশিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।

    ৩. এরপর চাল ছেঁকে পরিষ্কার পাত্রে পানি সংগ্রহ করুন।

    ৪. শ্যাম্পু করার পর চুল ও মাথার ত্বকে রাইস ওয়াটার লাগান।

    ৫. পাঁচ থেকে ১০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

    প্রথম দিকে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করে চুলের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যেতে পারে। সবার চুলের ধরন এক নয়, তাই ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ সময়সূচি নেই। ব্যবহারের পর চুল শুষ্ক, রুক্ষ বা আঠালো মনে হলে ব্যবহার কমিয়ে দিন কিংবা বন্ধ করুন।

    সংরক্ষণে সতর্কতা জরুরি

    সদ্য তৈরি রাইস ওয়াটার ব্যবহার করাই ভালো। বাড়িতে তৈরি এই মিশ্রণ দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অব্যবহৃত অংশ ফ্রিজে রাখুন এবং গন্ধ, রং বা চেহারায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে ফেলে দিন।

    বিশেষ করে গাঁজানো রাইস ওয়াটারকে অনেকে বেশি কার্যকর বলে প্রচার করেন। কিন্তু গাঁজনের ফলে চুলের যত্নে এর উপকারিতা বাড়ে—এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাঁজন ও সংরক্ষণ করলে মিশ্রণে অনাকাঙ্ক্ষিত জীবাণু জন্মাতে পারে।

    রাইস ওয়াটারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?

    রাইস ওয়াটার সবার চুল ও মাথার ত্বকের জন্য সমান উপযোগী নয়। এতে থাকা শ্বেতসার ও অন্যান্য উপাদান চুলে আস্তরণ তৈরি করতে পারে। ফলে চুল ভারী, শক্ত, আঠালো বা তৈলাক্ত মনে হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাবও দেখা দিতে পারে।

    যাদের আগে থেকেই মাথার ত্বকে কোনো সমস্যা রয়েছে, তাদের বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। ব্যবহারের পর অস্বস্তি, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। উপসর্গ না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য কী করবেন?

    চুল ভালো রাখতে শুধু কোনো একটি ঘরোয়া উপাদানের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক পরিচর্যায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়া, চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার এবং ভেজা চুলে অতিরিক্ত টান দিয়ে আঁচড়ানো এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং ও চুলে বেশি টান পড়ে এমন ছাঁট এড়িয়ে চলা উচিত।

    সব মিলিয়ে, রাইস ওয়াটার চুলকে সাময়িকভাবে মসৃণ ও সহজে সামলানোর উপযোগী করতে পারে। তবে চুল দ্রুত গজানো বা চুল পড়া বন্ধ করার নিশ্চিত উপায় হিসেবে এটিকে বিবেচনা করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে চুলের প্রকৃত সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যা ও চিকিৎসা নেওয়াই ভালো।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ