পাসপোর্ট অফিসে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ, ৫ দফা দাবি ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ৫ দফা দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
রোববার (৩০ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংগঠনের ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মোঃ সাহজাহান কবির, উপসহকারী পরিচালক মোঃ মোর্শেদুল হক, সহকারী হিসাবরক্ষক মোঃ জয়নাল আবেদীন, উচ্চমান সহকারী নিগার সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া পাসপোর্ট অফিসের আনসার, নিরাপত্তাকর্মী এবং বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে সক্রিয় থাকা কথিত দালালচক্র, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে কথিত মাসোহারা, অবৈধ অর্থ লেনদেন ও অর্থ বণ্টনের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্তের ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত, ঘুষমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ নাগরিকরা যাতে কোনো দালালের আশ্রয় ছাড়াই সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট সেবা নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
পাশাপাশি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ ও নাগরিক হয়রানির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের জন্য লিখিতভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের জনগণ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে পাসপোর্ট অফিস ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী বলেন, “ইতোমধ্যে উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে। তবে বদলি করাই চিরস্থায়ী সমাধান নয়। পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে যে সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে, সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ও দালালের আশ্রয় ছাড়াই সেবা পান, সেটিই আমাদের মূল দাবি।”
তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।