বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ‘সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে জামায়াত’: নুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শেষ, চলছে গণনা রাষ্ট্রপতির শপথেই শেষ হবে ফখরুলের এমপি-মন্ত্রিত্ব: চিফ হুইপ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রিন ফাইন্যান্স মিললে সোলারে যাবে ১,৩০০ পোশাক কারখানা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যের ফর্মুলা জানালেন সিমন্স র‍্যাব বিলুপ্ত হলেও বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি হবে: ইন্তেখাব ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, সংসদে চলছে ব্যালট গ্রহণ বঙ্গভবন ছাড়লেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ রোহিঙ্গা সংকটে অর্থনীতি ও পরিবেশে বাড়ছে চাপ: সেনাপ্রধান
  • ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী নাটালি হার্প কে, কেন এত প্রভাবশালী

    ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী নাটালি হার্প কে, কেন এত প্রভাবশালী
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে নাটালি হার্পকে। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে কখনো প্রেসিডেন্টের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট টাইপ করতে, কখনো গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য তার কাছে পৌঁছে দিতে এবং কখনো অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সফরে সঙ্গী হতে দেখা যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হার্পের উপস্থিতি ও প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    ৩৫ বছর বয়সী হার্প সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় আসেন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বক্তব্যের পর। ট্রাম্পের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হার্পের বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ তোলেন। বিশেষ করে কাতারের আমিরের উপহার হিসেবে আলোচিত উড়োজাহাজে ট্রাম্পের ভ্রমণের সময় হার্পের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর পাশাপাশি গত মাসে তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের সময়ও হার্পের উপস্থিতির খবর সামনে আসে।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে হার্পের উপস্থিতি প্রায় নিয়মিত। ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্টের কাছাকাছি অবস্থান থেকে শুরু করে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার সময়ও তাকে প্রায়ই দেখা যায়।

    কীভাবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হলেন হার্প

    হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের শুরুটা ছিল অন্যরকম এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা হার্প হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পান।

    ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চালু হওয়া ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের আওতায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। প্রচলিত কেমোথেরাপি কার্যকর না হওয়ায় ওই চিকিৎসা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হার্প ট্রাম্পকে তার চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য কৃতিত্ব দেন। তার ভাষ্য ছিল, পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ না পেলে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে থাকতেই হয়তো তার মৃত্যু হতো।

    ওই বক্তব্যের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে হার্পের প্রশংসা করেন। এরপর ধীরে ধীরে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ম্যাগা আন্দোলনের সমর্থকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডেও যুক্ত হন হার্প।

    ট্রাম্পের পরাজয়ের পরও সম্পর্ক অটুট

    ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প পরাজিত হওয়ার পরও তার রাজনৈতিক বলয় থেকে দূরে সরে যাননি হার্প। তিনি রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে (ওএএন) উপস্থাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

    সেখানে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ওই সময় ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন—এমন মিথ্যা দাবিও প্রচার করেছিলেন তিনি।

    ২০২২ সালে ওএএন ছেড়ে আবার ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবিরে ফিরে আসেন হার্প। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্টের আস্থাভাজনদের একজন হয়ে ওঠেন।

    আনুষ্ঠানিক পদ এক, ভূমিকা আরও বিস্তৃত

    হোয়াইট হাউসে হার্পের আনুষ্ঠানিক পদ ‘এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য প্রেসিডেন্ট’। সাধারণত এই পদে সময়সূচি, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজ সমন্বয় করার দায়িত্ব থাকে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনে হার্পের ভূমিকা এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরের অনেকে এবং কয়েকজন সাংবাদিক তাকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে ডাকেন। ট্রাম্প সংবাদ প্রতিবেদন, নিবন্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কাগজের কপি পড়তে পছন্দ করেন। এ কারণে একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে দেখা যায় হার্পকে।

    হোয়াইট হাউসের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের কাছে কোন তথ্য বা আপডেট পৌঁছাবে, সে ক্ষেত্রে হার্পের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। এ কারণে তাকে অনেকে ‘গেটকিপার’ হিসেবেও বর্ণনা করেন।

    ট্রাম্পের হয়ে টাইপ করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট

    ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্ট তৈরিতেও হার্পের ভূমিকা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বক্তব্য টাইপ করে দেওয়ার কাজ করেন তিনি।

    ২০২৪ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের একটি বক্তব্য দেখার সময় ট্রাম্পের পাশে বসে তাকে প্রেসিডেন্টের হয়ে পোস্ট টাইপ করতে দেখা যায়। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

    ট্রাম্পের বিদেশ সফরেও হার্পের উপস্থিতি তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আরও দৃশ্যমান করেছে। সম্প্রতি তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপন বিমানযাত্রার সময়ও তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    কেন ট্রাম্পের এতটা কাছের হার্প?

    ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্পের ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন।

    বিবিসির প্রতিবেদনে হ্যাবারম্যানের একটি মন্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি হার্পকে ট্রাম্পের ‘কমফোর্ট ব্ল্যাঙ্কেট’ বা মানসিক স্বস্তির সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেন।

    হার্পের ভাই প্রেস্টন হার্পের ভাষ্য, তার বোন ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বড় ভক্ত’। ছোটবেলা থেকেই হোয়াইট হাউসে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন হার্প। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশসহ কয়েকজন প্রেসিডেন্টকে তিনি চিঠিও লিখেছিলেন।

    হোয়াইট হাউস অবশ্য হার্পকে প্রেসিডেন্টের একজন ‘বিশ্বস্ত ও মূল্যবান’ সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ট্রাম্প নিজে প্রকাশ্যে হার্পের ভূমিকা নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ