জাঙ্ক ফুডে অভ্যস্ত? ওজনের পাশাপাশি ক্ষতি হতে পারে স্মৃতিশক্তিরও

প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত তৈরি করা যায় এবং স্বাদেও আকর্ষণীয় হওয়ায় চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ফ্রেঞ্চফ্রাই, সসেজ, নাগেটসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার এখন অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। তবে এসব খাবার নিয়মিত খেলে শুধু ওজন ও কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকিই নয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে সাধারণত ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। একই সঙ্গে এসব খাবারে চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণও বেশি হতে পারে। বিপরীতে শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
পুনের স্নায়ুরোগ চিকিৎসক মহেশ যাদবের মতে, দীর্ঘদিন নিয়মিত অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের সঙ্গে স্মৃতিনাশজনিত রোগের ঝুঁকির সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে। গবেষণায় নিয়মিত এ ধরনের খাবার গ্রহণকারীদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। ডিমেনশিয়া শুধু স্মৃতি ভুলে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এতে চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার সক্ষমতাও ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।
পুষ্টির ঘাটতিও বড় কারণ
মস্তিষ্ককে সারাক্ষণ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও সুষম পুষ্টি। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ মস্তিষ্কের কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু দিনের পর দিন প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার দিয়ে ক্ষুধা মেটালে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এসব খাবারে ক্যালরি বেশি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হতে হবে
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অপর্যাপ্ত পুষ্টির সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভ্যাস থাকলে কিছু মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি অনুভব করা
পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
সহজেই মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়া
অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনুভব করা
চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হওয়া
তবে এসব উপসর্গের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মস্তিষ্ক ভালো রাখতে কী খাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যতটা সম্ভব অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে তাজা ও পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। তৈলাক্ত মাছ, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার, ডিম, তাজা সবজি, মৌসুমি ফল, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
সুষম খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বাদ ও সুবিধার কারণে প্যাকেটজাত খাবারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য ও পুষ্টির ভারসাম্য রাখা জরুরি।