বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

ভারতে নিষেধাজ্ঞা, তবু আক্ষেপ নেই আতিফ আসলামের

ভারতে নিষেধাজ্ঞা, তবু আক্ষেপ নেই আতিফ আসলামের
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের কণ্ঠ ভারতীয় শ্রোতাদের কাছে বহু বছর ধরেই পরিচিত। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় এক দশক ধরে ভারতে নতুন কোনো গান প্রকাশ করতে পারেননি তিনি। তবে কাজের ক্ষেত্রে দূরত্ব তৈরি হলেও ভারতীয় শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর সঙ্গীতের সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভারতের সঙ্গে তাঁর সঙ্গীত-সম্পর্ক ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন আতিফ আসলাম। তিনি জানান, ভারতে তাঁর নতুন গান আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছাতে না পারলেও বিভিন্ন উপায়ে অনুরাগীরা তাঁর গান শুনছেন।

আতিফের দাবি, অনেক ভারতীয় শ্রোতা ভিপিএন ব্যবহার করে তাঁর গান শুনছেন। কেউ কেউ আবার সিডি কপি করে পরিচিতদের মধ্যে গান ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে গান শোনার ক্ষেত্রে অবৈধ কপি বা পাইরেসিকে তিনি সমর্থন করেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন এই শিল্পী।

আতিফের মতে, সঙ্গীতকে পুরোপুরি সীমাবদ্ধ করে রাখা কঠিন। কোনো একটি জায়গায় গান পৌঁছানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হলেও শ্রোতারা নানা উপায়ে তা খুঁজে নেন। তাঁর কথায়, সঙ্গীতের নিজস্ব একটি পথ রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি শ্রোতাদের কাছে পৌঁছেই যায়।

ভারতে কাজের সুযোগ হারানো নিয়ে অবশ্য কোনো ক্ষোভ প্রকাশ করেননি আতিফ। বরং এই পরিস্থিতিকে নিজের সংগীতজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছেন তিনি। তাঁর মতে, বলিউডে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কিন্তু ভারতে কাজের সুযোগ বন্ধ না হলে হয়তো নিজের মৌলিক গান তৈরিতে এতটা মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হতো না।

এই প্রসঙ্গে আতিফ মনে করেন, নিষেধাজ্ঞার সময়টি তাঁকে নিজের সংগীতসত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ দিয়েছে। নিজের গান ও সৃজনশীলতার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় পরিস্থিতির প্রতি এক অর্থে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

ভারতীয় শিল্পীদের পাকিস্তানে কাজের সুযোগ নিয়েও সাক্ষাৎকারে কথা বলেন আতিফ। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব শুধু রাজনীতি বা কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বিনোদন ও সংগীতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে। ভারত যেমন পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্রে একই ধরনের বাধা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে আতিফ আসলামের সংগীতের সম্পর্ক অবশ্য দীর্ঘদিনের। ‘তু জানে না’, ‘পেহলি নজর মে’, ‘তেরে হোনে লাগা হুঁ’, ‘জিনা জিনা’, ‘আদত’ ও ‘ওহ লমহে ওহ বাতে’-এর মতো গান তাঁকে ভারতীয় সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তাঁর কণ্ঠে বলিউডের একাধিক গান শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে।

২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বাগী ২’ সিনেমার ‘ও সাথী’ গানটি ছিল বলিউডে আতিফের গাওয়া শেষ দিকের উল্লেখযোগ্য গানগুলোর একটি। এরপর আর নতুন করে বলিউডে গান প্রকাশের সুযোগ পাননি তিনি।

তবে দীর্ঘ বিরতির পরও ভারতীয় শ্রোতাদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা যে কমেনি, সেটিই আতিফের সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে। কর্মক্ষেত্রের দরজা বন্ধ থাকলেও শ্রোতাদের ভালোবাসা এখনো তাঁর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আর সেই সম্পর্ককেই নিজের সংগীতজীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন এই পাকিস্তানি শিল্পী।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন