বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • ভ্যাকসিনবিরোধী প্রচারণা নয়, টিকাদান কমার পেছনে অন্য বাস্তবতা

    ভ্যাকসিনবিরোধী প্রচারণা নয়, টিকাদান কমার পেছনে অন্য বাস্তবতা
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হার কমে যাওয়ার পেছনে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুয়া তথ্য বা ভ্যাকসিনবিরোধী প্রচারণা দায়ী নয়। বরং স্বাস্থ্যসেবায় সহজে পৌঁছাতে না পারা, সময়ের সংকট এবং পারিবারিক চাপের মতো বাস্তব সমস্যাই এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে যুক্তরাজ্যে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে দেশটিতে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে চার-ইন-ওয়ান টিকা গ্রহণের হার ৮১ শতাংশ, যেখানে ২০১৪ সালে এ হার ছিল ৮৯ শতাংশ। একইভাবে হাম, মাম্পস ও রুবেলা (এমএমআর) টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের হারও আগের তুলনায় কমেছে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ অভিভাবক টিকার বিরোধিতা করেন না। তবে হাসপাতালে যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্টের জটিলতা, কর্মব্যস্ততা এবং চিকিৎসাসেবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের অভাবে অনেক শিশুই নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে পারছে না।

    প্রতিবেদনে এক তরুণী মায়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা ও নবজাতকের দেখভালের চাপের কারণে তিনি সময়মতো সন্তানের টিকা দিতে পারেননি। পরে বাড়ির কাছাকাছি একটি শপিং সেন্টারে চালু হওয়া ‘ওয়াক-ইন’ টিকাদান কেন্দ্র থেকে সহজেই সন্তানকে টিকা দিতে সক্ষম হন।

    ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের কেইথলি শহরে একটি খালি দোকানঘরকে টিকাদান কেন্দ্রে রূপান্তরের পর সেখানে টিকা গ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ভাষ্য, মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের স্থানের কাছাকাছি টিকাদান সেবা পৌঁছে দেওয়ায় অভিভাবকদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    এদিকে, যুক্তরাজ্যে শিশুদের টিকাদান বাধ্যতামূলক করা হবে কি না—তা নিয়েও আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ‘অপ্ট-আউট’ পদ্ধতির পক্ষে মত দিলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের হার বাড়াতে শুধু ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ করলেই হবে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, টিকাদান কেন্দ্র সহজলভ্য করা এবং অভিভাবকদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করে তোলাও জরুরি।

    তাদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। কারণ, টিকাদান কর্মসূচির সফলতা শুধু সচেতনতার ওপর নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কতটা নাগালে রয়েছে, তার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন