দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, একই সময়ে মুক্তি পাচ্ছে ‘নির্বাসিত’

দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবারও কলকাতায় ফিরছেন লেখক তসলিমা নাসরিন। ২০০৭ সালে নানা পরিস্থিতির কারণে শহরটি ছাড়ার পর আগামী ১ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতে ফিরবেন তিনি। সফরকালে মৌলবাদবিরোধী একটি আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
জানা গেছে, ‘সেক্যুলার মিশন’, ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার্স’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের ভেন্যু কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সদন। সেখানে মৌলবাদবিরোধী আলোচনা, মতবিনিময় এবং কবিতা পাঠে অংশ নেবেন তসলিমা নাসরিন।
তসলিমার এই সফরের ঠিক আগের দিন, ৩১ জুলাই, আবারও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘নির্বাসিত’। ২০১৪ সালে নির্মাতা চূর্ণী গাঙ্গুলী পরিচালিত ছবিটি তসলিমা নাসরিনের নির্বাসিত জীবনের বেদনা, একাকিত্ব এবং বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। চলচ্চিত্রটিতে তসলিমার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন চূর্ণী গাঙ্গুলী।
‘নির্বাসিত’-এর কাহিনি আবর্তিত হয়েছে কলকাতা ছাড়ার সময় তসলিমা নাসরিন ও তাঁর পোষ্য বিড়াল ‘মিনু’-এর সাময়িক বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে। মানুষের সঙ্গে প্রাণীর আবেগময় সম্পর্ক, নির্বাসনের মানসিক চাপ এবং নিঃসঙ্গতার অনুভূতি ছবিটির অন্যতম প্রধান বিষয়।
চলচ্চিত্রটির পুনর্মুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পরিচালক চূর্ণী গাঙ্গুলী। তাঁর ভাষ্য, তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফিরে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাংলাদেশ ছাড়ার পর কলকাতাও ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়ার অভিজ্ঞতাই ‘নির্বাসিত’ নির্মাণের অনুপ্রেরণা ছিল।
তিনি জানান, তসলিমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে ছবির শুটিং বিভিন্ন বাস্তব লোকেশনে করা হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার কারণে তসলিমাকে যে দ্বীপে রাখা হয়েছিল, সেখানেও দৃশ্যধারণ করা হয়।
চূর্ণী গাঙ্গুলীর মতে, তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফেরার সময়েই ‘নির্বাসিত’-এর পুনর্মুক্তি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তিনি বলেন, “তসলিমাদিদি কলকাতায় বসে নিজের জীবনভিত্তিক এই ছবি দেখতে পারবেন—এটি তাঁর জন্যও এক বিশেষ প্রাপ্তি।”
প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিনের প্রত্যাবর্তন এবং একই সময়ে তাঁর জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রের পুনর্মুক্তি—দুই ঘটনাই পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।