থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে

দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়ায় এতে যুক্ত হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, বাইপাইল ইন্টারসেকশন এবং নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ।
বুধবার (২২ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দ্বিতীয় সংশোধনী অন্যতম।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পে নতুন তিনটি সংযোগ অবকাঠামো যুক্ত হওয়ায় মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়। সর্বশেষ দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা যোগ হওয়ায় মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-শুল্ক, ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং পরামর্শক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদও ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।
২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি কাওলা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো ও বাইপাইল হয়ে সাভারের শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিনের একনেক সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার সমন্বিত উন্নয়ন, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার সম্প্রসারণ এবং নতুন গ্যাস কূপ খনন প্রকল্প।