ইয়েমেনে হুথিদের আরও দুই ঘাঁটি দখলের দাবি সেনাবাহিনীর

স্থানীয় একটি উপজাতি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহজ প্রদেশে হুথিদের আরও কয়েকটি ঘাঁটি দখলের দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শুক্রবারের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ একটি পাহাড়ি ঘাঁটিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে ইয়েমেনের এক সেনা কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় আল-সাবিহা উপজাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতায় লাহজের আল-মাদারিবাহ ওয়া আল-আরাহ এলাকায় হুথিদের বেশ কয়েকটি অবস্থানে অভিযান চালানো হয়। এতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর নেশন শিল্ড বাহিনী ও জায়ান্ট ব্রিগেড অংশ নেয়।
সেনা কর্মকর্তার ভাষ্য, অভিযানে নৌমান পর্বতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। ওই অবস্থান থেকে লাহজের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী তাইজ প্রদেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ওপর নজরদারি চালাত হুথি কমান্ডাররা।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দাবি, সেপ্টেম্বরের শুরুতে লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরনগরী মোখা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার পর হুথি যোদ্ধারা পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলো দখলের চেষ্টা করছিল। এর মধ্যে লাহজের কাহবুব এবং তাইজের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা ছিল তাদের অন্যতম লক্ষ্য। বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নজরদারির কৌশলগত সুবিধা পাওয়াই এসব এলাকা দখলের উদ্দেশ্য ছিল বলে সেনা কর্মকর্তারা জানান।
তবে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর জায়ান্ট ব্রিগেড, নেশন শিল্ড বাহিনী এবং আল-সাবিহা উপজাতির যোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে হুথি বাহিনী পিছু হটে কয়েকটি অবস্থান ছেড়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
ইয়েমেনের সেনা কমান্ডারদের দাবি, কাহবুব দখলে ব্যর্থ হওয়ায় লোহিত সাগর এলাকায় হুথিদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও স্থাপনা এখন আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
আরব নিউজকে ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘হুথিদের অগ্রসর হওয়া অনেকাংশে থেমে গেছে এবং তারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। কিছু যোদ্ধা জানিয়েছেন, অগ্রসর হওয়ার সময় তাদের পাহাড়জুড়ে পড়ে থাকা মৃতদেহের পাশ দিয়ে যেতে হয়েছে।’
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে হুথি বাহিনী রাজধানী সানা দখল করে। এরপর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে চলে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে একই বছর ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বর্তমানে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের নেতৃত্বাধীন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সরকারটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
উত্তর ইয়েমেন থেকে হুথিদের সরিয়ে দিতে গত জুলাই থেকে সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ