বাংলাদেশে বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের আহ্বান ডিসিসিআইয়ের

মালয়েশিয়া ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়াতে দেশটির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) ও ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের (এফএমএম) সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ডিসিসিআইয়ের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল এসব বৈঠকে অংশ নেয়।
এনসিসিআইএম আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানি সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।
তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মালয়েশিয়ার পণ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এনসিসিআইএমের সভাপতি নরসিয়াহরিন বিন হামদিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধানত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করে। তবে বাংলাদেশের বড় ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ভোক্তা বাজারে মালয়েশিয়ায় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী।
এদিকে, ২৫ সেপ্টেম্বর এফএমএম আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততাও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন এফএমএম সভাপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় দক্ষ, পরিশ্রমী ও মানসম্পন্ন কর্মী সরবরাহ করে আসছে। দেশটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে এসব কর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
জ্যাকব লি চোর কক আরও বলেন, ভবিষ্যতে এসব কর্মী বাংলাদেশে ফিরে গেলে মালয়েশিয়ায় অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়িত জ্ঞান দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে মানবসম্পদ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগও বাড়বে।
সভায় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড রিজিওনাল গ্রুপিংস ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. রাশেদি সাইদ এবং মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) সেন্ট্রাল, ওয়েস্ট, সাউথ এশিয়া অ্যান্ড আফ্রিকা সেকশনের পরিচালক নাইম আব্দুল রহমান বক্তব্য দেন।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ডিসিসিআই ও এফএমএমের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন।
এ ছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা প্রায় ৭০টি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিং সেশনে অংশ নেন। এসব বৈঠকে ব্যবসা ও বিনিয়োগের বিভিন্ন তথ্য বিনিময়ের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।