শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা, কমেছে সূচক ও মূলধন বেড়েছে লেনদেন

সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও বাজার মূলধন ও মূল্যসূচকে ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৯২৩ কোটি টাকা। একই সময়ে প্রধান মূল্যসূচকসহ অন্য দুটি সূচকও কমেছে। তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৭ শতাংশের বেশি।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে তিন দিনই কমেছে মূল্যসূচক। সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার তালিকায় ছিল ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে ৯২৩ কোটি টাকা।
বাজার মূলধনের পাশাপাশি কমেছে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স। গত সপ্তাহে সূচকটি ৪ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ৩৩ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ২ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটির পতন হয়েছিল ১৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
বাছাই করা ভালো কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও নিম্নমুখী ছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে সূচকটি কমেছে ১৮ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে এই সূচক কমেছিল ১৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ।
দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৭ শতাংশ
সূচক ও বাজার মূলধনে পতন থাকলেও গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। পাঁচ কার্যদিবসে প্রতিদিন গড়ে ৫২৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৫০ কোটি ৭ লাখ টাকা।
অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৭৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধির হার ১৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।
লেনদেনের শীর্ষে এনভয় টেক্সটাইল
গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।
লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মতিন স্পিনিং। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ২২ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল।
লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে শাহজিবাজার পাওয়ার, ব্র্যাক ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ইভিন্স টেক্সটাইল, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নাহি অ্যালুমেনিয়াম ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স।