সেমিফাইনালেই থামল ফ্রান্স, এমবাপেকে ছুঁতে দিল না কাফুর রেকর্ড

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে ফ্রান্স। এই পরাজয়ের ফলে কিলিয়ান এমবাপের সামনে থাকা একটি ঐতিহাসিক কীর্তিও হাতছাড়া হয়েছে। জয় পেলে টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে নামতেন তিনি। কিন্তু স্পেনের কাছে হেরে সেই সুযোগ আর পাওয়া হলো না।
এমবাপে ফাইনালে উঠতে না পারায় ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার কাফুর টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামার অনন্য রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়ে গেল।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের আরেক দুই কিংবদন্তি পেলে ও রোনালদোও তিনটি করে ফাইনালিস্ট দলে ছিলেন। তবে তাদের যাত্রাপথ কাফুর মতো ছিল না।
১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পেলে। ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে চোটের কারণে গ্রুপ পর্বের পর আর মাঠে নামতে পারেননি। এরপর ১৯৭০ সালে ইতালির বিপক্ষে ফাইনালে গোল করে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ নেন তিনি।
অন্যদিকে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলে থাকলেও রোনালদো কোনো ম্যাচে মাঠে নামেননি। ১৯৯৮ সালের ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেন তিনি। পরে ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন।
তবে কাফুর কীর্তি এখনো অনন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে খেলেছেন। ১৯৯৪ সালে বদলি হিসেবে, ১৯৯৮ সালে শুরুর একাদশে এবং ২০০২ সালে অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে খেলেন এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। তিনটি ফাইনালের মধ্যে দুটি জিতে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন, আর একটিতে রানার্সআপ হন।
এদিকে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। এখন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর অপেক্ষায় রয়েছে তারা। ওই ম্যাচে জয়ী দলই বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে।