ডেঙ্গু চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের জন্য কঠোর নির্দেশনা

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ডেঙ্গু রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেলে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালকে তাদের মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ সাধারণ রোগীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে এক জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এ কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতালগুলোকে নির্ধারিত শয্যা খালি রাখতে হবে এবং সরকারি রেটের বাইরে অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না।
তিনি জানান, সরকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে এবং সিবিসি (CBC) পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ১ লাখ ৬৬ হাজার র্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট (RDT) কিট মজুদ রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ৫ লাখ কিট যুক্ত হবে।
স্যালাইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি না রাখতে পর্যাপ্ত স্যালাইন সংরক্ষণ করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয়ভাবে অতিরিক্ত ১ লাখ স্যালাইন ব্যাগ মজুদ রাখা হয়েছে এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। গত দুই মাস ধরে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশা ও লার্ভা নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংসদে আলোচনার সময় কয়েকজন সংসদ সদস্য জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, চিকিৎসক সংকট এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
এর জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে আইসিইউ স্থাপনের কথা সরকার বলেনি। তবে ইতোমধ্যে ১২টি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও পাঁচটি জেলায় নতুন আইসিইউ চালু করা হবে।
তিনি আরও জানান, সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং পদায়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।