বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • আবু সাঈদকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল, ট্রাইব্যুনালের রায়ে যা বলা হয়েছে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর আজ ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস, স্মরণে আবু সাঈদ হোটেল, প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা—পর্যটন খাতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগে বিপর্যস্ত সাত জেলা, নিহত ৫৭, আহত ৪০ রাতে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে চমক! বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জেও বেপজার সাফল্য, বেড়েছে রপ্তানি ও কর্মসংস্থান ডেঙ্গু চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের জন্য কঠোর নির্দেশনা বিভাগীয় মামলায় দোষী, চাকরিচ্যুত সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা বাংলাদেশে ভুয়া বিয়ের ফাঁদ, মানবপাচারের ঝুঁকির সতর্কতা চীনের
  • ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে কেন নিয়মিত ছুটি নেওয়া জরুরি?

    ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে কেন নিয়মিত ছুটি নেওয়া জরুরি?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    অনেকেই মনে করেন, কর্মজীবনে দ্রুত সফল হতে হলে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করাই একমাত্র উপায়। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, দীর্ঘমেয়াদে ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত বিশ্রাম ও পরিকল্পিত ছুটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো বিরতি না নিলে কর্মদক্ষতা যেমন কমে, তেমনি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

    বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় কাজ করলে ধীরে ধীরে ক্লান্তি জমতে থাকে। এতে মনোযোগ কমে, ভুলের সংখ্যা বাড়ে এবং কাজের প্রতি আগ্রহও হ্রাস পায়। ফলে অতিরিক্ত কাজ করার বদলে প্রয়োজনমতো ছুটি নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ারের জন্য বেশি উপকারী।

    মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর

    বর্তমান কর্মসংস্কৃতিতে অতিরিক্ত কাজের চাপ অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ‘বার্নআউট’-এর মতো সমস্যা।

    ২০২৪ সালে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের এক জরিপে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৫৩ শতাংশ মানসিক চাপ এবং ৪০ শতাংশ ঘুমের সমস্যাকে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ছুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    গবেষণায় মিলেছে ইতিবাচক ফল

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার গবেষকেরা বিশ্বের ৯টি দেশের ৩২টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ছুটি কাটানোর সুফল শুধু ছুটির সময় নয়, কর্মস্থলে ফেরার পরও দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব অ্যাপ্লাইড সাইকোলজি-তে।

    মস্তিষ্কেরও প্রয়োজন বিরতি

    মানুষের মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় একইভাবে কাজ করার জন্য তৈরি নয়। টানা কাজের ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, মনোযোগ ও সৃজনশীলতা কমতে শুরু করে। কয়েক দিনের বিশ্রাম মস্তিষ্ককে পুনরায় সতেজ হওয়ার সুযোগ দেয়, যা কাজে ফেরার পর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    বার্নআউটের ঝুঁকি কমে

    অতিরিক্ত কাজ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মিলেই তৈরি হয় বার্নআউট। এতে কর্মক্ষমতা কমার পাশাপাশি অনিদ্রা, উদ্বেগ ও হতাশার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ছুটি এসব ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করে।

    সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ে

    একই পরিবেশে দীর্ঘদিন কাজ করলে নতুন চিন্তার সুযোগ কমে যায়। ভ্রমণ, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্ক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এতে নতুন আইডিয়া তৈরি হয় এবং কাজে ফিরে উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।

    ব্যক্তিগত সম্পর্কও হয় শক্তিশালী

    ব্যস্ততার কারণে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। ছুটি সেই ঘাটতি পূরণের সুযোগ তৈরি করে। প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়, যা কর্মজীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    ছুটি মানেই ভ্রমণ নয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ছুটি কাটাতে দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়া, বই পড়া, সিনেমা দেখা, রান্না, বাগান করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও সমান কার্যকর হতে পারে। মূল বিষয় হলো কাজের চাপ থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে দূরে রাখা।

    পরিকল্পিতভাবে কাজে ফেরা জরুরি

    দীর্ঘ ছুটির পর হঠাৎ অতিরিক্ত কাজের চাপ না নিয়ে ধীরে ধীরে কর্মপরিবেশে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ছুটির ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কর্মদক্ষতাও বজায় থাকে।

    সবশেষে বিশেষজ্ঞদের মত, সফল ক্যারিয়ার গড়তে কঠোর পরিশ্রমের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি নিয়মিত বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রয়োজনমতো ছুটি নেওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করাই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।


    সূত্র: সাইকোলজি টুডে, ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া, মেন্টাল হেলথ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ