ইরানের সামরিক শক্তি ভেঙে পড়েছে’—দাবি ট্রাম্পের

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে নিয়ে নতুন করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি ‘৯০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছেন’ এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতাও কার্যত ভেঙে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এসব মন্তব্য তুলে ধরা হয়। ইরানে টানা তৃতীয় রাতের মার্কিন হামলার পর তিনি এ বক্তব্য দেন।
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, দেশটির নৌ ও বিমানবাহিনী প্রায় অকার্যকর হয়ে গেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়েছে এবং সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ভুলবশত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পরিবর্তে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাম উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, খোমেনি ১৯৮৯ সালে মারা যান, আর আলি খামেনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিহত হয়েছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত এবং ‘মৃতপ্রায় অবস্থায়’ রয়েছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এরপর থেকেই তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সম্পদের বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৫৯টি নৌযান এবং ২০০টি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতার বড় অংশও নষ্ট হয়ে গেছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতার প্রায় ৮৪ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং কয়েক মাসের ব্যবধানে দেশটিকে অনেকটাই দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইরানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একই ধরনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি