মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত চারটি মার্কিন ঘাঁটি এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এতে জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও গোলাবারুদ ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি সামুদ্রিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে হামলা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরবর্তী ধাপে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে হামলার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, সেখানে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি মার্কিন ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় জ্বালানি ট্যাংক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি রাডার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশসীমায় প্রবেশ করা সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় রয়েছে। হামলা প্রতিহত করার সময় বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে ইরানের দাবি করা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা