উপজেলা হাসপাতালেই মিলবে আধুনিক চিকিৎসা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত করতে চলতি বছরের মধ্যেই প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে উপজেলা থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, আধুনিক ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চলতি মাসেই আমদানি করা হবে। পাশাপাশি জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি, জেলা হাসপাতালে ১০টি এবং দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস শয্যা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কিডনি রোগীরা নিজ নিজ এলাকায় চিকিৎসাসেবা পান।
মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় মিডওয়াইফ ও কেয়ারগিভাররা বিশেষ স্ক্রিনিং যন্ত্র নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন, যাতে রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এ হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও জোরদার করবে এবং গ্রামাঞ্চলে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, প্রেয়ার কর্নার, আধুনিক প্যাথলজি বিভাগ এবং কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হবে, যাতে স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।