ঢামেককে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে গড়তে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৪ দফা প্রস্তাব

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকাডেমিক মেডিকেল সেন্টারে রূপান্তর এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ১৪ দফা প্রস্তাবসংবলিত একটি স্মারকলিপি উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্মারকলিপিটি দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৪৬ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া মাসুম। তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও স্মারকলিপির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছেন। এতে ২০২৬ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ১০ বছর মেয়াদি একটি জাতীয় স্বাস্থ্য উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ সফর উপলক্ষে এ স্মারকলিপি উপস্থাপন করা হয়। সফরে তার সহধর্মিণী এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত থাকবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপির উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব
- * স্মারকলিপিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- * হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করে মেঝেতে রোগী রেখে চিকিৎসার অবসান এবং নতুন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ট্রমা সেন্টার, স্ট্রোক সেন্টার ও ন্যাশনাল কার্ডিয়াক সেন্টার নির্মাণ।
- * আধুনিক হাইব্রিড ও মডুলার অপারেশন থিয়েটার স্থাপন, ক্যাথ ল্যাব চালু এবং ২৪ ঘণ্টা প্রাইমারি পিসিআই সেবা নিশ্চিত করা।
- * জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, কার্ডিওলজি ও ট্রমা বিভাগের সমন্বয়ে সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু।
- * ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর), ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্লিনিক্যাল সাপোর্ট চালুর মাধ্যমে ঢামেককে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল হাসপাতালে রূপান্তর।
- * ঢাকা মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ হেলথ সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
- * শিক্ষার্থী ও রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ আবাসন, গবেষণা অনুদান, ২৪ ঘণ্টা রিডিং রুম এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
- * চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার, হাসপাতালকে দালাল ও সহিংসতামুক্ত ঘোষণা এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রণয়ন।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা মেডিকেল সেন্টারের লক্ষ্য
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ হাজার রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও অতিরিক্ত রোগীর চাপ, জনবল সংকট ও আধুনিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না।
অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া মাসুম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। ২০২৬-২০৩৬ মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢামেক শুধু দেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
স্মারকলিপিতে স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর উদ্যোগ কামনা করা হয়েছে।