সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তফসিল নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ ইসির ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, উদ্বেগ জানাল ইএসডিও ‘স্বৈরাচার হেরেছে’ স্লোগানে মুখর দিল্লি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উচ্ছ্বাস রোববার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, একদিনে প্রাণ গেল একজনের ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভিসা সমস্যা সমাধানের আহ্বান শাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই হাম-উপসর্গে বাড়ছে মৃত্যু, সর্বশেষ ৬ শিশুর সবাই ঢাকা বিভাগের
  • সাম্বা, সমুদ্র আর অ্যামাজনের দেশে

    সাম্বা, সমুদ্র আর অ্যামাজনের দেশে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    নভেম্বর ২০২৫-এর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

    দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফুটবল, সাম্বা, কার্নিভাল, অ্যামাজন বন আর কোপাকাবানার সমুদ্রসৈকত। দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল দেশটি কাছ থেকে দেখার। সেই স্বপ্ন পূরণ হয় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। প্রায় দুই সপ্তাহের সফরে ঘুরে দেখার সুযোগ হয় ব্রাজিলের তিনটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের শহর—সাও পাওলো (São Paulo), রিও ডি জেনিরো (Rio de Janeiro) এবং বেলেম (Belém)। প্রতিটি শহরই যেন আলাদা এক গল্প, আলাদা এক অনুভূতি।

    সাও পাওলো—ব্রাজিলের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র

    ব্রাজিলে পা রেখেই বুঝতে পারলাম, সাও পাওলো শুধু একটি শহর নয়; এটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। বিশাল সুউচ্চ ভবন, ব্যস্ত সড়ক, বহুজাতিক কোম্পানির কার্যালয় এবং নানা সংস্কৃতির মানুষের বসবাস শহরটিকে এক আন্তর্জাতিক নগরীতে পরিণত করেছে।

    শহরের অন্যতম আকর্ষণ অ্যাভেনিদা পাউলিস্তা (Avenida Paulista)। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই সড়কে প্রাণচাঞ্চল্য লেগেই থাকে। রাস্তার শিল্পী, সংগীতশিল্পী, বইয়ের দোকান, ক্যাফে—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন পরিবেশ।

    সাও পাওলোর আরেকটি বিশেষ দিক হলো এর খাবারের বৈচিত্র্য। ইতালিয়ান, জাপানি, আরব ও ব্রাজিলিয়ান খাবারের অসংখ্য রেস্তোরাঁ রয়েছে। ব্রাজিলের জনপ্রিয় খাবার চুরাস্কো (Churrasco) এবং পাঁও দি কেইজো (Pão de Queijo) খেয়ে ভিন্ন স্বাদ পেয়েছি।

    রিও ডি জেনিরো—প্রকৃতি আর প্রাণের শহর

    সাও পাওলো থেকে রিও ডি জেনিরো পৌঁছাতেই যেন পরিবেশ বদলে গেল। পাহাড়, সমুদ্র আর শহরের অসাধারণ মেলবন্ধন রিওকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর শহরে পরিণত করেছে।

    রিও সফরের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার (Christ the Redeemer) মূর্তির সামনে দাঁড়ানো। করকোভাদো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে পুরো শহরকে একসঙ্গে দেখা সত্যিই এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

    এরপর ঘুরে দেখেছি বিখ্যাত কোপাকাবানা (Copacabana)ইপানেমা (Ipanema) সমুদ্রসৈকত। নভেম্বরে আবহাওয়া ছিল বেশ মনোরম। সৈকতে ব্রাজিলিয়ানদের প্রাণবন্ত জীবনযাপন, বিচ ফুটবল, ভলিবল আর সংগীত যেন পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে রেখেছিল।

    রিওর মানুষ অত্যন্ত প্রাণখোলা। ফুটবল নিয়ে তাদের আবেগ সত্যিই অবাক করার মতো। ছোট ছোট মাঠে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই ফুটবল খেলছেন। মনে হয়েছে, ব্রাজিলে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি তাদের সংস্কৃতির অংশ।

    বেলেম—অ্যামাজনের প্রবেশদ্বার

    ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের শহর বেলেম আমার সফরের সবচেয়ে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। এই শহরকে বলা হয় অ্যামাজনের প্রবেশদ্বার

    বেলেমে গিয়ে প্রথমেই চোখে পড়ে প্রকৃতির আধিপত্য। চারদিকে নদী, সবুজ বন আর ভিন্নধর্মী আবহাওয়া। এখানকার বাতাসে যেন অ্যামাজনের গন্ধ মিশে আছে।

    সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ভের-ও-পেসো (Ver-o-Peso) বাজার। এটি ব্রাজিলের অন্যতম প্রাচীন উন্মুক্ত বাজার। এখানে স্থানীয় ফল, মাছ, ভেষজ ও নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পণ্য বিক্রি হয়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এই বাজার দেখতে আসেন।

    বেলেমের খাবারও ছিল একেবারেই আলাদা। আসাই (Açaí) ফলের আসল স্বাদ প্রথমবারের মতো এখানেই উপভোগ করেছি। পাশাপাশি অ্যামাজনের বিভিন্ন নদীর মাছ দিয়ে তৈরি খাবারের স্বাদও ছিল অসাধারণ।

    মানুষ ও সংস্কৃতি

    ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সম্পদ সম্ভবত এখানকার মানুষ। ভাষা না মিললেও হাসিমুখে সাহায্য করার মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। পর্তুগিজ ভাষা না জানলেও অনেকেই অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন।

    ব্রাজিলিয়ানরা পরিবার, সংগীত ও ফুটবলকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে। শহরভেদে সংস্কৃতির পার্থক্য থাকলেও অতিথিপরায়ণতায় কোথাও কোনো ঘাটতি চোখে পড়েনি।

    কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা

    নভেম্বরে আবহাওয়া ছিল তুলনামূলক উষ্ণ ও আর্দ্র। বিশেষ করে বেলেমে আর্দ্রতার মাত্রা অনেক বেশি। শহরগুলোতে উবার ও মেট্রো ব্যবস্থার কারণে চলাচল বেশ সহজ। তবে বড় শহরে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

    শেষ কথা

    সাও পাওলো আমাকে দেখিয়েছে আধুনিক ব্রাজিলকে, রিও শিখিয়েছে প্রকৃতি ও আনন্দের সঙ্গে কীভাবে মানুষ বাঁচে, আর বেলেম পরিচয় করিয়ে দিয়েছে অ্যামাজনের রহস্যময় জগতের সঙ্গে।

    ২০২৫ সালের নভেম্বরের এই সফর শুধু একটি বিদেশ ভ্রমণ ছিল না; বরং ছিল একটি নতুন সংস্কৃতি, নতুন মানুষ এবং নতুন জীবনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ। ব্রাজিল এমন একটি দেশ, যেখানে একবার গেলে আবারও ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। ফুটবলের দেশ হিসেবে যাকে আমরা চিনি, বাস্তবে ব্রাজিল তার চেয়েও অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়, রঙিন এবং হৃদয়স্পর্শী।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ