শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • দ্বিপাক্ষিক সফরে দেশ ও জনগণের স্বার্থই ছিল অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে বাবা-মায়ের কবরে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী কৃষি ও খাদ্যে ১.১ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের উদ্যোগ বাংলাদেশের ১৪ ফল এখন জিআই স্বীকৃত, খুলছে নতুন বাজার জীবনের জটিল সমীকরণ নিয়ে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’, প্রকাশ্যে ট্রেলার ১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অগ্রগতি, পদায়ন ও যোগদান নিয়ে বৈঠক রোববার প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রশংসায় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত রোমে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত জর্ডানের বিপক্ষে মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনার চমক
  • পুরান ঢাকার ইতিহাসে দুই সুফি সাধক ও এক প্রাচীন মসজিদের বিস্মৃত ঐতিহ্য

    পুরান ঢাকার ইতিহাসে দুই সুফি সাধক ও এক প্রাচীন মসজিদের বিস্মৃত ঐতিহ্য
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মুহাম্মাদ রাহাতুল ইসলাম

    আজকের ব্যস্ত মহানগর ঢাকা একসময় ছিল নদী, বনভূমি ও জলাভূমিতে ঘেরা একটি জনপদ। নগরায়ণের বহু আগে এ অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও আধ্যাত্মিক চর্চার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েকজন সুফি সাধকের নাম। তাঁদের মধ্যে হজরত শাহ নিয়ামতুল্লাহ বুতশিকন (বা বুদ-সেকান্দ) এবং হজরত শাহ জালাল দাখিনী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজধানীর দিলকুশা ও বঙ্গভবন এলাকায় তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের কথা এখনও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র ও জনশ্রুতিতে আলোচিত হয়।

    শাহ নিয়ামতুল্লাহ বুতশিকন

    লোককথা ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় শাহ নিয়ামতুল্লাহকে ঢাকার প্রাচীনতম সুফি সাধকদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত ‘বুতশিকন’ উপাধির অর্থ ‘মূর্তি ভঙ্গকারী’।

    প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, একবার তাঁর আস্তানার পাশ দিয়ে মূর্তিবাহী একটি শোভাযাত্রা যাওয়ার সময় তাঁর ইশারায় মূর্তিগুলো ভেঙে পড়ে। এই ঘটনাকে ঘিরে বহু মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল বলে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। যদিও এ ধরনের বর্ণনা মূলত জনশ্রুতি; এর ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

    বর্তমানে পুরানা পল্টনের দিলকুশা এলাকায় তাঁর মাজার অবস্থিত, যা ঢাকার প্রাচীন ইসলামী ঐতিহ্যের একটি স্মারক হিসেবে পরিচিত।

    শাহ জালাল দাখিনীর আগমন

    ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, শাহ জালাল দাখিনী দক্ষিণ ভারত থেকে বাংলায় আসেন এবং সুফি শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেন।

    কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, সুলতান রুকনুদ্দীন বরবক শাহের আমলে রাজনৈতিক সন্দেহ ও ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপটে তিনি এবং তাঁর কয়েকজন অনুসারী নিহত হন। এ বিষয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায়।

    'আখবারুল আখইয়ার'সহ কয়েকটি ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে, বর্তমান বঙ্গভবন এলাকার ভেতরে তিনি ও তাঁর কয়েকজন শিষ্য সমাহিত আছেন।

    শাহ জালাল দাখিনী মসজিদের ইতিহাস

    ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মোগল আমলে বর্তমান রাজউক ভবনের কাছাকাছি একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ নির্মিত হয়, যা দীর্ঘদিন ‘শাহ জালাল দাখিনী মসজিদ’ নামে পরিচিত ছিল।

    ঊনবিংশ শতাব্দীর কিছু আলোকচিত্র ও ঐতিহাসিক নথিতে এ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরে নবাব আহসানউল্লাহ মসজিদটির সংস্কার করেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    বর্তমানে মসজিদটি ‘দিলকুশা জামে মসজিদ (নওয়াববাড়ি)’ নামে অধিক পরিচিত। নাম পরিবর্তনের ফলে এর প্রাচীন ঐতিহাসিক পরিচয় অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে বলে ইতিহাস-গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন।

    ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন

    ঢাকার ইতিহাস শুধু স্থাপত্য বা পুরোনো ভবনের ইতিহাস নয়; এটি আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিকাশেরও ইতিহাস। তাই প্রাচীন মসজিদ, মাজার ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের পরিচয় সংরক্ষণ এবং সঠিক তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।

    ইতিহাসবিদদের মতে, ঐতিহাসিক স্থাপনার মূল পরিচয়, নাম ও প্রেক্ষাপট সংরক্ষণ করা একটি শহরের সাংস্কৃতিক স্মৃতি রক্ষার অন্যতম উপায়। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক তথ্যচর্চা বাড়ানোও সময়ের দাবি।

    • দ্রষ্টব্য: এই লেখায় উল্লেখিত কিছু ঘটনা ঐতিহাসিক গ্রন্থ, স্থানীয় জনশ্রুতি ও গবেষকদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে অলৌকিক ঘটনা ও কিছু ঐতিহাসিক দাবি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

    সূত্র: ১. মুসলিম আমলে বাংলার শাসনকর্তা-আসকর ইবনে শাইখ ২. বাংলাদেশে ইসলাম- আব্দুল মান্নান তালিব
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ