টানা তৃতীয় দিন দরপতনে শেয়ারবাজার, বেড়েছে লেনদেন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার দেশের শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমায় দুই বাজারেই মূল্যসূচক নেমে গেছে। তবে এর মধ্যেও উভয় বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হলো।
রোববার (১৬ আগস্ট) লেনদেনের শুরুতে বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৩ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তৈরি হয়।
তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। একের পর এক কোম্পানি দরবৃদ্ধির তালিকা থেকে দরপতনের তালিকায় চলে আসে। শেষদিকে প্রায় সব খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমায় সূচকও নিম্নমুখী হয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৪৭টির দাম কমেছে এবং ৪১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। দিন শেষে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২০৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল মালেক স্পিনিং। কোম্পানিটির ৩১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপর বেক্সিমকোর ২৮ কোটি ৯৯ লাখ এবং সমরিতা হাসপাতালের ২২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও ছিল সেনা ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম কটন, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
অন্যদিকে সিএসইতেও দিনের লেনদেনে দরপতনের চিত্র দেখা গেছে। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬৮ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৪টির দাম বেড়েছে, ১১২টির কমেছে এবং ৩৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইতে দিন শেষে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।