ব্রাজিলের সামনে নরওয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ, কোয়ার্টার ফাইনালে জমবে লড়াই

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে এবার কঠিন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ নরওয়ে—এমন একটি দল, যাদের বিপক্ষে ইতিহাসে এখনো জয়ের দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে শুধু অতীতের পরিসংখ্যানই নয়, বর্তমান নরওয়ে দলের শক্তিও ব্রাজিলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
দুই দলের মুখোমুখি চারটি ম্যাচের মধ্যে নরওয়ে জিতেছে দুটি এবং বাকি দুটি ড্র হয়েছে। যদিও সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে, তাই অতীতের ফলাফল বর্তমান বাস্তবতার একমাত্র মানদণ্ড নয়। তবু ব্রাজিলের জন্য এই রেকর্ড একটি মানসিক চাপ তৈরি করতেই পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নরওয়ে দল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রজন্ম। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার সোরলোথ, আন্তোনিও নুসা ও অস্কার ববের মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগে প্রতিষ্ঠিত ফুটবলারদের নিয়ে দলটি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক।
বিশেষ করে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা আর্লিং হালান্ড দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে দ্রুততম সময়ে ৬০ গোলের রেকর্ড গড়া এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপেও গোল করার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। তাঁর সঙ্গে সৃজনশীল মিডফিল্ডার ওডেগার্ডের সমন্বয় নরওয়ের আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করে তুলেছে।
ব্রাজিলিয়ান ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯০-এর দশকের নরওয়ের তুলনায় বর্তমান দলটি আরও আধুনিক, দ্রুতগতির এবং কারিগরি দক্ষতায় সমৃদ্ধ। রক্ষণে দৃঢ়তা বজায় রেখে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ চালানোর পাশাপাশি এক-অন-এক পরিস্থিতিতে ড্রিবলিংয়ের সক্ষমতাও বেড়েছে।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, তীব্র গরম দুই দলের জন্যই বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন পরিবেশে আগে কখনো একে অপরের বিপক্ষে খেলেনি ব্রাজিল ও নরওয়ে।
সব মিলিয়ে, এটি শুধু অতীতের হিসাব মেলানোর ম্যাচ নয়; বরং ইউরোপের নতুন শক্তিতে পরিণত হওয়া নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের সামর্থ্য প্রমাণেরও লড়াই। কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও বর্তমান ফর্ম, দলগত ভারসাম্য এবং তারকাসমৃদ্ধ নরওয়ে যে সেলেসাওদের জন্য বড় বাধা হতে পারে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।