সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
Natun Kagoj

গরমে স্বাস্থ্য রক্ষায় শিশুর যত্নে বদল আনুন

 গরমে স্বাস্থ্য রক্ষায় শিশুর যত্নে বদল আনুন
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

একদিকে তীব্র সূর্যের তাপ, অন্যদিকে পড়াশোনা ও দৈনন্দিন চাপ—সব মিলিয়ে গরমের এই সময় শিশুদের সুস্থ রাখা অভিভাবকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবহাওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া জরুরি।

গরমে শিশুদের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সানবার্ন, হিট র‍্যাশ, হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি এবং পানিশূন্যতা। বাইরে দীর্ঘ সময় খেলা বা রাস্তার খাবার খাওয়ার কারণে পানিবাহিত ও খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন—কখনো তীব্র রোদ, আবার হঠাৎ বৃষ্টি—শিশুদের শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রোদ থেকে সরাসরি ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়া, ঘন ঘন এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার কিংবা ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এতে বিশেষ করে অ্যাজমা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভোগা শিশুদের অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে হিট র‍্যাশ, একজিমা ও সানবার্ন হতে পারে। পাশাপাশি শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে ইউরিন ইনফেকশনসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, রাস্তার শরবত, কাটা ফল বা অস্বাস্থ্যকর খাবার ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, হেপাটাইটিস-এ এবং আমাশয়ের মতো রোগের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

শিশুর যত্নে করণীয়

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমে শিশুদের সুরক্ষায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলা জরুরি—

কড়া রোদে বাইরে গেলে ছাতা, টুপি ও সানগ্লাস ব্যবহার করানো এবং সানস্ক্রিনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। হিট র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুকে বারবার গরম ও ঠান্ডা পরিবেশে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এয়ার কন্ডিশন থেকে সরাসরি রোদে বা বাইরে বের না করে কিছু সময় স্বাভাবিক পরিবেশে অভ্যস্ত করে নিতে হবে।

হালকা ও সুতির পোশাক পরানো ভালো, যাতে শরীর অতিরিক্ত গরম না হয়। অতিরিক্ত ঘাম হলে বারবার বেবি পাউডার ব্যবহার না করাই উত্তম।

বাইরে খেলার পর শিশুকে অবশ্যই হাত, মুখ ও পা পরিষ্কার করতে হবে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা এবং বাড়ি থেকে পানি নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পাশাপাশি টাটকা ফল, সবজি ও ঘরে তৈরি পানীয় খাদ্যতালিকায় রাখা দরকার।

শিশুর পানি পানের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ডিহাইড্রেশন না হয়। দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করানো উচিত।

খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি কমিয়ে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার—মাছ, মুরগি, বাদাম ও আঁশযুক্ত খাবার রাখা ভালো।

সম্ভব হলে সকালে বা বিকেলে হালকা রোদে শিশুকে কিছু সময় বাইরে খেলতে দেওয়া যেতে পারে, যা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ