বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

ইরান পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের মেগা পরিকল্পনা

ইরান পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের মেগা পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটির জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি ডলার) পর্যন্ত একটি বিশাল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সুবিধা পেতে হলে তেহরানকে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি এবং পরমাণু কর্মসূচি-সংক্রান্ত সমঝোতার শর্ত পূরণ করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি বড় বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব সুবিধা নির্ভর করবে ইরান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্ত কতটা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।

যুদ্ধবিরতি বাড়ানো ও নতুন আলোচনার পরিকল্পনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু এবং চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অর্থে গঠিত হতে পারে তহবিল

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য তহবিলটি কোনো সরকার সরাসরি অর্থায়ন করবে না। বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে এটি গঠন করা হতে পারে।

ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলো ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। এমনকি কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠানও সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৯ কোটি মানুষের বাজার এবং বিপুল জ্বালানি সম্পদের কারণে ইরান আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় গন্তব্য।

শর্ত পূরণ হলেই মিলবে অর্থনৈতিক সুবিধা

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখে, তাহলে দেশটি পুনর্গঠন তহবিল ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন পরিষ্কার করেছে, কোনো অর্থ এককালীন দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা কিংবা বিনিয়োগ তহবিলের অর্থ ছাড়—সবকিছুই ধাপে ধাপে এবং ইরানের অগ্রগতির ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো উৎস থেকে ইরানের কাছে কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি।

ওবামা আমলের চুক্তির চেয়েও বড় প্রস্তাব?

সম্ভাব্য এই আর্থিক সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও আলোচনা চলছে। কারণ, ট্রাম্প অতীতে বারাক ওবামার ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে সেই চুক্তির মাধ্যমে ইরান অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েছিল।

তবে বর্তমান প্রশাসনের দাবি, এবার কোনো সুবিধা আগাম দেওয়া হবে না। সব ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নির্ভর করবে ইরানের বাস্তব পদক্ষেপ, দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত অগ্রগতির ওপর।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন