হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনার কথা বলার পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত খসড়ায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু নৌবন্দর থেকে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার শুরু করবে, যা ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
এছাড়া, চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হতে পারে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যৎ চুক্তিতে ধাপে ধাপে জাতিসংঘ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রয়েছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরানের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটন নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা বিধিনিষেধ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিথিল করা হতে পারে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে বলেও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স