জলবায়ু লড়াইয়ে একসঙ্গে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া। আসন্ন কপ৩১ (COP31) জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে দুই দেশ যৌথভাবে দ্বিতীয় “লেটার টু পার্টিজ” প্রকাশ করেছে, যেখানে বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপ দ্রুততর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত ক্লাইমেট মিনিস্টেরিয়াল বৈঠকের সাইডলাইনে শুক্রবার এই যৌথ বার্তা প্রকাশ করা হয়। আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যৌথ চিঠিতে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া উল্লেখ করেছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও জলবায়ু পদক্ষেপ আরও জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, “এই অনিশ্চয়তার সময়ে শক্তিশালী জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগই বৈশ্বিক জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ।”
এতে আরও বলা হয়, কপ৩১ সম্মেলন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তর, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।
এদিকে কপ৩১-এর মনোনীত সভাপতি ও তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুরাত কুরুম কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফাঁকে আজারবাইজান (কপ২৯) এবং ব্রাজিল (কপ৩০)-এর সঙ্গে “বেলেম মিশন টু ১.৫” নামে একটি যৌথ উদ্যোগে স্বাক্ষর করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দেশগুলোর জাতীয় জলবায়ু প্রতিশ্রুতি আরও শক্তিশালী করা, অভিযোজন পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “বেলেম মিশন টু ১.৫” উদ্যোগ প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সীমার লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করতে পারে।
কপ৩১ প্রেসিডেন্ট-ডিজাইনেট মুরাত কুরুম এবং অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন যৌথভাবে জানিয়েছেন, কপ৩১ একটি নতুন ধরনের সম্মেলন কাঠামোর উদাহরণ হতে যাচ্ছে, যেখানে সহযোগিতা, সংহতি এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তাদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।