মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
Natun Kagoj

ট্রাম্পের ঘোষণায় জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

ট্রাম্পের ঘোষণায় জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সোমবার (১৮ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গালফ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধে মঙ্গলবারের জন্য পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। এই ঘোষণার পর বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে নেমে ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়। পুরো দিনজুড়ে তেলের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়।

এর আগে সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে’ এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনাগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি ইরানের অবস্থানকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেও মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়।

ফলে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি বা ব্যর্থতার যেকোনো ইঙ্গিতেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তেলের বাজার। সোমবার দিনের শুরুতে দাম বাড়লেও পরে পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার ট্রাম্প তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

পরবর্তীতে ইরানের একটি সংবাদ সংস্থা দাবি করে, আলোচনার অগ্রগতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে—যা বাজারে শান্তির ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। এতে তেলের দাম আরও কমে যায়।

পরে সোমবার রাতে ট্রাম্প জানান, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে এবং কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা মঙ্গলবারের হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন একটি সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

তবে তিনি সতর্ক করে দেন, গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত থাকবে। এ বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থবাজারেও পড়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণগ্রহণ ব্যয় বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার একপর্যায়ে ৪.৬৩ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে জাপানের সরকারি বন্ডের সুদহারও বৃদ্ধি পায় এবং ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার রেকর্ড ৪.২ শতাংশে ওঠে।

ইউরোজোনের বন্ড বাজারেও দিনের শুরুতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও পরে তেলের দাম কমার প্রভাবে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন