মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশি পর্যটক বাড়ায় ফের জমজমাট কলকাতার নিউ মার্কেট শাবনূর কি সালমানের প্রেমিকা ছিলেন? জানালেন নীলা চৌধুরী ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত? জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জেআইসি গুম-নির্যাতন মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক প্রেসিডেন্টের বৈঠক সেপ্টেম্বরেই মা হচ্ছেন দীপিকা শিশুদের টিকার সংখ্যা কমাতে ট্রাম্পের নির্দেশ বাংলাদেশকে সরিয়ে বিশ্বকাপে, এবার আইসিসির সিদ্ধান্তে স্কটল্যান্ডের ক্ষোভ জনগণের আয় না বাড়িয়ে ব্যয়ের বোঝা চাপানো হচ্ছে: শফিকুর রহমান শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
  • অবহেলায় ধ্বংসের পথে রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র

    অবহেলায় ধ্বংসের পথে রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: আশির দশকে গড়ে ওঠা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আজ চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় ধ্বংসের মুখে। 

    এক সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম হিসেবে পরিচিত এই হ্যাচারিটি বর্তমানে জনবল সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অবকাঠামোগত দুরবস্থায় কার্যক্রম ব্যাহত অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সংস্কার কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রের ভেতরে ২১টি পুকুর সংস্কার এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তা উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কংকর ও সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করছেন ঠিকাদার। যদিও ঠিকাদার মো. জিয়ারুল হক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত রেণু ও পোনা উৎপাদনের মৌসুম। কিন্তু জনবল ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চাষিদের চাহিদার ৩০ শতাংশও পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে সম্ভাবনাময় এই কেন্দ্রটি তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না।

    ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে চাঁদপুর সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় ৫৪ একর জমির ওপর এই কেন্দ্রটির নির্মাণ শুরু হয়। ১৯৮১ সালে কার্যক্রম শুরু হলে উন্নত মানের রেণু ও পোনার জন্য এটি সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু দুই দশক পেরোতেই শুরু হয় নানা সংকট।

    বর্তমানে অনুমোদিত ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২১ জন। ফলে ৬৩টি পদ শূন্য পড়ে আছে। ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। এছাড়া ফিশারম্যান, হ্যাচারি গার্ড ও ল্যাব সহকারীর পদেও তীব্র সংকট বিরাজ করছে। কর্মরতদের অনেকেই আবার শিগগির অবসরে যাবেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

    অফিস সূত্রে জানা গেছে, সংস্কারের অভাবে ৬৯টি পুকুরের মধ্যে ৩০টি বহু বছর ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। অনেক পুকুরের পাড় ভেঙে গেছে, আবার কিছু পুকুর পরিণত হয়েছে খেলার মাঠে। বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারণে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলা যাচ্ছে না। পানির অভাবে চলতি বছর সাত থেকে আট কেজি ওজনের প্রায় দুই শতাধিক ব্রুড ফিশ মারা গেছে। বাধ্য হয়ে পাশের ডাকাতিয়া নদীর দূষিত পানি ব্যবহার করায় রেণুর গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, সরকারি হ্যাচারির পোনার ওপর চাষিদের নির্ভরতা বেশি। যথাযথ নজরদারি ও জনবল সংকট দূর করা গেলে এই কেন্দ্রটি আবারও দেশের মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন।

    রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক অজিত কুমার পাল জানান, এক সময় এশিয়ার বৃহত্তম হ্যাচারি হলেও বর্তমানে এটি নানা সংকটে জর্জরিত। জনবল ঘাটতি বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বড় কাজে ছোটখাটো কিছু সমস্যা থাকতে পারে, তবে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়বে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন