শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশে বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের আহ্বান ডিসিসিআইয়ের ইয়েমেনে হুথিদের আরও দুই ঘাঁটি দখলের দাবি সেনাবাহিনীর কালকিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা; সভাপতি রকিবুজ্জামান ও সাধারন সম্পাদক কাইয়ুম আজমানে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় 'সাইনিং সুপারমার্কেট'র শুভ উদ্বোধন জাসদ কার্যালয় 'গোপন বৈঠক’ আ. লীগ সন্দেহে শতাধিক নেতাকর্মী আটক গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো গণতান্ত্রিক সরকারের পথ নয়: তথ্য উপদেষ্টা সচিব পরিচয়ে ফাঁদ, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ তানভীরের কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন: বগুড়া কারা কর্তৃপক্ষ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের নতুন ইউনিট গঠনের ঘোষণা মামদানিকে ‘হামাসের বন্ধু’ বলায় নেতানিয়াহুর সমালোচনায় ইহুদি নেতারা
  • স্বনির্ভরতার পথে যুক্তরাষ্ট্র, তবে বাড়ছে ঋণ ও ঘাটতির চাপ: আইএমএফ

    স্বনির্ভরতার পথে যুক্তরাষ্ট্র, তবে বাড়ছে ঋণ ও ঘাটতির চাপ: আইএমএফ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০২৫ সাল থেকে অর্থনীতিকে স্বনির্ভরতা-কেন্দ্রিক নতুন নীতিপথে নিয়ে গেছে, যার লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অভিবাসন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। তবে এই নীতির স্বল্পমেয়াদি সুফল থাকলেও মধ্যমেয়াদে ঋণ ও রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

    সংস্থাটির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২ দশমিক ২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদনশীলতা শক্তিশালী থাকায় প্রবৃদ্ধি টিকে ছিল, যদিও বছরের শেষ দিকে সরকারি কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা প্রভাব পড়ে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা পূর্ণ কর্মসংস্থানের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে মূল্যস্ফীতিতে কিছু চাপ তৈরি হলেও সেবাখাতে মূল্যবৃদ্ধির হার কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে ২ শতাংশের আশপাশে নেমে আসবে।

    সরকারের নতুন কর ও ব্যয়সংক্রান্ত পদক্ষেপে আগামী দুই বছরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি আসতে পারে। তবে এতে বাজেট ঘাটতি বাড়বে। উচ্চ শুল্ক স্বল্পমেয়াদে রাজস্ব আয় বাড়ালেও তা উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যচাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে শ্রমবাজারে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে।

    মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ফেডারেল বাজেট ঘাটতি সাময়িকভাবে কমলেও সামনের বছরগুলোতে তা আবার বাড়তে পারে। বর্তমান নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরে সরকারি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং দশকের শেষে তা জাতীয় আয়ের তুলনায় অনেক উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যদিও তাৎক্ষণিক ঋণসংকটের ঝুঁকি কম, তবু ঊর্ধ্বমুখী ঋণের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

    মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছর নীতিগত সুদের হার ধীরে ধীরে কমানো শুরু করেছে। চলতি বছরের শেষে সুদের হার আরও কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে শ্রমবাজারে বড় ধরনের অবনতি না ঘটলে ব্যাপক হারে শিথিল নীতির সম্ভাবনা কম।

    আন্তর্জাতিক সংস্থাটি সুস্পষ্ট ও সময়োপযোগী রাজস্ব সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে। রাজস্ব আয় বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় পুনর্বিন্যাস এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সার্বিকভাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বর্তমানে স্থিতিশীল ও প্রবৃদ্ধিমুখী থাকলেও উচ্চ ঘাটতি ও বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। স্বনির্ভরতা-কেন্দ্রিক নীতির সাফল্য নির্ভর করবে আর্থিক শৃঙ্খলা, ভারসাম্যপূর্ণ মুদ্রানীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর।


    সূত্র: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন