ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের বাণিজ্য

মার্কিন আদালত ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে শুল্কারোপ নিয়ে টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে। পারস্পরিক শুল্ক হার নির্ধারণে বারবার নীতিগত পরিবর্তনের কারণে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর সরাসরি প্রভাবে গত সাত মাসে দেশের রপ্তানি আয় সর্বোচ্চ হারে কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি সই করে। তবে এই চুক্তি কতটা ব্যবসাবান্ধব—তা নিয়ে রপ্তানিকারকদের মধ্যে রয়েছে সংশয়। তাদের মতে, উচ্চ শুল্কহার বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, মার্কিন চাপের মুখেই তড়িঘড়ি করে চুক্তিটি সম্পন্ন করা হয়েছিল। চুক্তিতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তি না করার শর্তসহ একাধিক কঠোর ধারা যুক্ত করা হয়। বিশ্লেষকদের দাবি, এসব শর্ত মেনে নেওয়ায় দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা হয়নি।
এদিকে সাম্প্রতিক এক রায়ে মার্কিন আদালত ট্রাম্পের আরোপিত পারস্পরিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তগুলো আদৌ বলবৎ থাকবে কি না। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির আইনি ভিত্তি ও কার্যকারিতা এখন পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।
রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তারা দ্রুত নীতিগত স্পষ্টতা চান। তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ ও রপ্তানি আদেশ—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।