লক্ষ্মীপুরে সরিষা চাষে কৃষকের স্বপ্নফসল, হলুদ ক্ষেতে হাসির ঝিলিক

কম খরচে বেশি লাভ—এই সমীকরণেই লক্ষ্মীপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরিষা চাষ। ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের ঝোঁক এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে সরিষা চাষে নতুন আশার আলো দেখছেন জেলার কৃষকরা।
জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠজুড়ে এখন চোখে পড়ে হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত সরিষার ক্ষেত যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে মাঠে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরাও। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতে ব্যস্ত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যেখানে পরিকল্পনা ছিল ২ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ। এ বছর ২ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গত বছর জেলায় ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ১ হাজার ৯৬৩ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য ছিল ৯ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে তুলনায় এবার আবাদ বেড়েছে ৪৩০ হেক্টর এবং উৎপাদনমূল্য বেড়েছে এক কোটিরও বেশি টাকা।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদর উপজেলায় সর্বাধিক ৮৫০ হেক্টর, রামগতিতে ৪৩৫ হেক্টর, রায়পুরে ২৬০ হেক্টর, কমলনগরে ১৮০ হেক্টর এবং রামগঞ্জে ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। বিনা, রিলে ও অন্যান্য উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা চাষ হচ্ছে জেলায়। এর মধ্যে ৮৮০ হেক্টর জমিতে চাষ দিয়ে এবং ৫৫০ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে সরিষা আবাদ করা হয়েছে।
কৃষকরা জানান, আমন ধান কাটার পর খালি জমিতে সরিষা চাষ করায় অতিরিক্ত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব হয়েছে। মাত্র তিন মাসের কম সময়ে ফলন ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘায় প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচে উৎপাদন পাওয়া যায় প্রায় ২০ হাজার টাকার সরিষা। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ সরিষা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ বলেন,
“অন্যান্য জেলার তুলনায় লক্ষ্মীপুরে সরিষা চাষ এখনও কম। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষকদের বীজসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে উৎপাদন সন্তোষজনক হবে।”
সব মিলিয়ে, কম পুঁজি আর দ্রুত লাভের সম্ভাবনায় সরিষা এখন লক্ষ্মীপুরের কৃষকদের কাছে হয়ে উঠছে সম্ভাবনাময় ও লাভজনক ফসল। আগামীতেও এই চাষ আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।