খুলনায় সরকারি জমি দখল করে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়

খুলনার খালিশপুরের বাস্তহারা এলাকায় সরকারি জমি দখল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকার বাবুলের ভাঙ্গারি দোকানের পাশে নির্মিত এই কার্যালয়কে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাস্তহারা এলাকায় একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়সহ বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয় এবং সরকারি জমিতে নতুন করে কোনো স্থাপনা না তোলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে জামায়াত নেতারা একই স্থানে নতুন করে কার্যালয় গড়ে তুলেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাস্তহারা উত্তর ইউনিটের সভাপতি মো. মানিক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরমান এবং বাস্তহারা দক্ষিণ ইউনিটের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেনসহ স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াত নেতারা এই দখল প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের চাল ও কাঠ দিয়ে প্রায় ৬–৭ হাত প্রস্থ ও ১০–১২ হাত দৈর্ঘ্যের একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপনার ভিতরে গিয়ে দেখা গিয়েছে খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির ও খুলনা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের স্টিকার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড সম্মিলিত বিভিন্ন প্যানা রয়েছে। বর্তমানে এটি জামায়াতের ওয়ার্ড অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নিয়মিত সেখানে বৈঠক করছেন দলের নেতারা। সরকারি জমিতে এভাবে অবৈধ কার্যালয় নির্মাণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন দবির বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সরকারি জমির ওপর অবৈধভাবে জামায়াত অফিস তৈরি করেছে। তারা নিয়মিত এখানেই কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ বায়োজিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন , ওই অফিসটি বাস্তুহারা যুবকদের "রক্ত দানকারী" একটি সামাজিক সংগঠনের। তারাই ব্যবহার করে অফিস এর সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোন সম্পর্ক নেই।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ফিরোজ সরকার বলেন, মহানগরের সড়কগুলো থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে দখলমুক্ত করা কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ স্থাপনা খুব দ্রুতই উচ্ছেদ করা হবে।