সিরিয়ার জনগণের পাশে নতুন ত্রাণ কর্মসূচি নিয়ে সৌদি আরব

সিরিয়ায় ১৬টি নতুন মানবিক উদ্যোগ উদ্বোধন করেছে সৌদি আরবের ত্রাণ সংস্থা কেএসরিলিফ। রোববার সংস্থাটির সুপারভাইজার জেনারেল ডা. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ এক উচ্চপর্যায়ের সৌদি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিরিয়া সফরে গিয়ে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. আল-রাবিয়াহ বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক। দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব সিরিয়ার জনগণের পাশে রয়েছে। সংঘাত শুরুর আগের সময় থেকে শুরু করে যুদ্ধকালীন সংকটের দিনগুলোতে আমরা সহায়তা দিয়ে এসেছি। আর এখন পুনর্গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা আবারও সিরিয়ার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, সৌদি আরব মানবিক কার্যক্রমে সবসময়ই অঙ্গীকারবদ্ধ, আর সিরিয়ার জনগণের দুর্দশা লাঘবে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে তারা সরাসরি উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা স্বাস্থ্যখাত, আশ্রয়খাত ও সামাজিক সহায়তার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছি। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো সিরিয়ার জনগণকে, বিশেষ করে নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়ন করা-যাতে তারা কেবল ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল না থেকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যায়। আমরা আশা করি, এর পরেই উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।’
প্রথম যে উদ্যোগটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি হলো লাইফসেভিং মেডিকেল ইকুইপমেন্ট প্রোগ্রাম। এর আওতায় ১৭টি কেন্দ্রীয় হাসপাতালে সিটি স্ক্যানার, আধুনিক আইসিইউ সরঞ্জাম ও নতুন প্রজন্মের ডায়ালাইসিস ইউনিট সরবরাহ করা হবে। এছাড়া দেশজুড়ে ৪৫৪টি অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিন বিতরণ করা হবে।
প্রকল্পটির আওতায় ৪৫টির বেশি বিশেষতায় ১ হাজার ২২০ জন সৌদি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে রয়েছে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট, স্নায়ু চিকিৎসা, শিশু ক্যান্সার সার্জারি এবং দাহ্য আঘাতের চিকিৎসা।
এর পাশাপাশি ১ লাখ ২৮ হাজার ১৫৯ ঘণ্টার স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমিকভাবে চলমান থাকবে।
সিরিয়ার দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মকর্তা রায়েদ আল-সালেহ কেএসরিলিফকে সিরিয়ার প্রতি সহায়তার জন্য প্রশংসা করেছেন।