‘অং সান সু চি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—নেই কোনো নিশ্চয়তা’

মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আইকন ও সাবেক নেত্রী অং সান সু চির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর ছেলে কিম আরিস। তিনি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সামরিক হেফাজতে থাকা সু চির শারীরিক অবস্থার কোনো তথ্য বাইরে আসছে না। ফলে তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—সেটিও জানার উপায় নেই।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিম বলেন, “আমার মা এখন খুবই অসুস্থ। তাঁর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। এক মাস আগে তাঁকে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুরোধ রাখা হয়েছে কি না, আমরা জানি না।”
কিম আরিস আরও জানান, সু চির সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা অং সান সু চির মুক্তি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাপ প্রয়োগ করে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে নোবেলজয়ী এই নেত্রী কারাগারে ও পরে গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে একাধিক মামলায় দীর্ঘ কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করছে।
আরিস বলেন, তাঁর মায়ের হাড় ও দাঁতেরও সমস্যা আছে। সম্ভবত গত মার্চের ভূমিকম্পের সময় থেকে তিনি এসব জটিলতায় ভুগছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সু চির চিকিৎসার আবেদনের বিষয়ে মিয়ানমারের সরকার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
২০২১ সালে অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক হেফাজতে আছেন সু চি। এই সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা নেন জেনারেল মিন আং হ্লাইং। সু চির বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমে তাঁর ৩৩ বছরের কারাদণ্ড হয়, পরে তা ছয় বছর কমানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর থেকেই সু চির অবস্থান অজানা। গত বছর আইনজীবীদের সূত্রে জানা গিয়েছিল, সু চি রাজধানী নেপিডোর একটি কারাগারে আছেন। তবে গত এক বছর ধরে সু চির সঙ্গে আইনজীবীদের সাক্ষাৎ হয়নি। একই বছর তাঁর ছেলে কিম আরিস গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ওই বছরই (২০২৪) তিনি তাঁর মায়ের কাছে থেকে একটি চিঠি পেয়েছিলেন।