মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুত ইসি, ভোট ২০ আগস্ট ‘যুদ্ধ ও কূটনীতি—দুই ক্ষেত্রেই ইরান জিতেছে’, দাবি আরাঘচির মার্জিন ঋণে নতুন নিয়ম, গেজেট প্রকাশ করে বিধিমালা কার্যকর করল বিএসইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সিইসির সঙ্গে আইজিপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আবেদন নাকচ, ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও রিট খারিজ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৯০ এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই জরিমানা ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সতর্ক করল আইসিডিডিআর,বি বাণিজ্য-বিনিয়োগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ মাদকের গডফাদারদের ধরতে অভিযান জোরদার: কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের টিকিট শেষ অস্ট্রেলিয়ায়
  • প্রতারক সাইফুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

    প্রতারক সাইফুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জুলাই ছাত্র হত্যা মামলার আসামী এলাকসয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ক্ষেত প্রতারক সাইফুল ইসলাম সজিবের বিরুদ্ধে শনিবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হিউম্যান রাইস এন্ড প্রেস সোসাইটির ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন কর্নফুলী গার্ডেন সিটি এ্যাপামেন্টের ভুক্তভোগীরা। 

    হিউম্যান রাইস এন্ড প্রেস সোসাইটির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যতে বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকার দুই থানায়, রামপুরা ও ভাটারায় ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলাম সজীব (৫) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা ও ভাটারা থানা কেন্দ্রীক এলাকা গুলিতে ছাত্রদের উপর বর্বরতা হত্যা ও নৈরাজ্য চালায়।

    বিজ্ঞ সি,এম, এম আদালতের দায়েরকৃত মামলার নম্বর ৩৪৮/২০২৫, রামপুরা থানা। রামপুরা থানার ৭ নং আসামী ও ভাটারা থানায় সি আর মামলা নং ১৩৯/২৫, ৬৯ নং আসামী সাইফুল ইসলাম সজীব। দুই থানায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার অন্যতম আসামী হয়েও এখন তিনি বিগত দিনের মত স্বাধীন ভাবে জীবন-যাপন করছেন। বিগত সরকার আমলে তিনি একাধিক অপরাধের স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলেন এবং এখন তিনি তার সাম্রাজ্যে অপরাধের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পর সাইফুল ইসলাম সজীব কর্নফুলী গার্ডেন সিটি এ্যাপামেন্ট, কাকরাইলের ফ্লাট নং ১০-সি এর বসবাসরত মোঃ মিজানুর রহমান লফিজের বাসায় ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে ৬ আগস্ট আনুমানিক রাত ৮ টার দিকে বাসায় ঢুকে হামলা চালায় এই হামলায় মিজানুর রহমান বাসায় না থাকায় তার ছেলে, মেয়ে এবং বাসায় থাকা কাজের ছেলেকে মেরে জগম করে।

    সিসি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে মোঃ মিজানুর রহমান লফিজের বাসায় বহিরাগত লোক জন সহ জোড় পূর্বক প্রবেশ করছে। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা ১০/সি ফ্লাটের মালিক মিজানুর রহমানের বাসায় হামলা, ভাংচুর ও লুটতরাজ চালায়। সজীবের সন্ত্রাসী, আক্রমন কারীরা ১০/সি ফ্লাটের মালিককে না পেয়ে তাহার বাসা থেকে ২টি আই ফোন, ১টি আই ট্যাব স্বর্নলংকার মেহমানের ফোন ও লাগেজ লুট করে নিয়ে যায়। এই হামলায় কর্নফুলী গার্ডেন সিটি এ্যাপামেন্টের গেটের সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে এবং মাইকের মেশিন ও মসজিদের মাইকের স্ট্যান, স্টান্ড ফ্যান নিয়ে যায়।

    এই হামলা চলাকালীন অবস্থায় আশে-পাশে লোকজনতা দেখে সেনাবাহিনীদের ফোন করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে সাইফুল ইসলাম সজীবের ভাড়া করা সন্ত্রাসী ৭ জন কে হামলা করা অবস্থায় ধরে নিয়ে যান। তার পরিপেক্ষিতে কর্নফুলী গার্ডেন সিটির ফ্লাট মালিক ৫১ জনের উপস্থিতিতে মিটিং করে ৬ (ছয়) জন বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন ১৮/০৮/২০২৪ইং সালে, মামলা নং ২। বিগত হাসিনা সরকারের আমলে সাইফুল ইসলাম সজীব ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত অপরাধের স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলেন কিন্তু সব অপরাধে ছাড় পেলেও তিনি অনেক গুলি মামলায় গ্রেফতার হন এবং জেল খেটে আসেন এবং সেই মামলায় জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে লিপ্ত হন। তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে সুপ্রীম কোর্টে একজন নারী এ্যাডভোকেট কে যৌন হেনস্তা করার জন্যে ভুক্তভোগী নারী তথ্য ও যোগা প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৩ তারিখ ২৪/১২/২০১৫ইং।

    ২০২৩ সালে হাতিরঝিল থানা এলাকায় বসবাসরত তৌহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ২০ লক্ষ টাকা লোন করিয়ে দিবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন এবং সেই লোক প্রতিবাদ করায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ভুক্তভুগী তার জীবনের নিরাপত্তার জন্যে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন এবং সেই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে সাইফুল ইসলাম সজীব জেল খেটে আসেন।

    যার হাতিরঝিল থানার মামলা নং সি আর ৭২৭/২০২৩ তারিখ: ২১/০৮/২০২৩ইং। ধারা ৪২০/৪০৬/৫০৬/৩২৩/৩৭৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৩৬২/৩৮৫/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।
    মৌলভীবাজার সদর থানায় ২০২৪ সালের ১৪ই আগষ্ট ধারা ৬৫, ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, তৎসহ ৩৫৩/৩৩২/৩৩৩/১৮৯ পেনাল কোড ১৮৬০ মামলা হয় এফ আর আই নং ১৬। সে মামলায় সে গ্রেফতার হয় এবং জেল খেটে আসেন।

    ২০২৩ সালেই সাইফুল ইসলাম সজীব রামপুরা থানার বেলায়েত হোসেন অনিক এর কাছে ২৫ লক্ষ টাকা চাঁদা বাজি করতে গিয়ে গ্রেফতার হন এবং চাঁদা বাজি মামলায় জেল খেটে আসেন।

    বেলায়েত হোসেন অনিক সাইফুল ইসলাম সজীব এর নামে অপহরণ, চাঁদা দাবী, চুরি, ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মামলা দায়ের করেন। সি, আর মামলা নং ৩৯০/২০২৩ (রামপুরা থানা)।

    পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কারনে সজীবের অপরাধের পরিমান দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে। কর্নফুলী গার্ডেন সিটি এ্যাপামেন্টে সজীব সর্বদা চলাচল করার সময় হাতে লাঠি নিয়ে হাটা চলা করেন এতে ফ্লাটে বসবাসরত সাধারণ মানুষ আতংকিত ও ভয়ের মধ্যে জীবন-যাপন করছেন সেটি তার কয়েক টি সি.সি ফুটেজে দেখা যায়।

    ডি এম পি এর হাতিরঝিল থানার এফ আই আর নং ৩৩, তারিখ ২ শে আগষ্ট ২০২৩ইং। উক্ত নিয়মিত মাদক মামলায় গ্রেফতার হন (মাদক ব্যবসায়ীক সহ)। এই মামলায় দুই দিনের রিমান্ড সহ জেল খেটে আসেন।

    বর্তমানে সাইফুল ইসলাম সজীব এর বেপরোয়া অপরাধের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন রমনা জোনের উপর মহলের পুলিশের সোর্সসহ ও রাজনৈতিক দলের কথিত নেতা। সংঘ বন্ধ সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছেন তার অপরাধ সাম্রাজ্য। এমন অপরাধের দৌরাত্ম্য দিন-দিন বাড়তে থাকায় অতিষ্ট ভুক্তভোগী কর্নফুলী গার্ডেন সিটি এ্যাপামেন্ট, কাকরাইলের ফ্লাটের সাধারণ বসবাসরত মানুষ জন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্নফুলী গার্ডেন সিটি এ্যাপামেন্ট বসবাসরত একজন বাসিন্দা বলেন, সাইফুল ইসলাম সজীবের কারন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একজন রাজনৈতিক নেতায় তাকে তার সামনে থেকে সরাসরি অপরাধের শেল্টার দেয় এবং সজীবের কাছ থেকে মাসিক ভাবে মোটা অংকের টাকা মাসোয়ারা হিসেবে হাতিয়ে নেয়। তাই তো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকার দুই থানায় ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলাম সজীব অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমকি যখন তখন মানুষকে মামলা দিচ্ছে।

    কর্নফুলী গার্ডেন সিটির একজন ভদ্র মহিলাকে উনি টেলিফোনে হুমকি প্রদান করেন যে উনার বাসার সবাইকে মেরে ঘর থেকে বের করে প্রেট্রোল দিয়ে ফ্লাট জ্বালিয়ে দিবে। প্রায়ই উনি বাহির থেকে মাস্তান ভাড়া করে ফ্লাটে নিয়ে আসে। উনি এক্ত-সাহস কোথায় থেকে পায়।

    কর্নফুলী গার্ডেন সিটি মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড এর ম্যানেজার মোঃ সামসুদ্দিন কে সাইফুল ইসলাম সজীব কর্নফুলী গার্ডেন সিটি মালিক সমবায় সমিতির অফিস কক্ষ থেকে জোড় পূর্বক বেআইনী ভাবে বের করে দেয় এবং উনার বসার সমিতির রুমে তালা মেরে দেন ও তালা না খোলার হুমকি প্রদান করেন। যদিও সামসুদ্দিন সাহেব কর্নফুলী গার্ডেন সিটি এ্যাপামেন্ট এর ৬০ জন ফ্লাট মালিকের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাই সজীব সাহেব একা ইচ্ছা করলেই উনাকে বাদ দিতে পারেন না এবং উনি একা কাউকে নিয়োগও দিতে পারেন না। কিন্তু উনি গায়ের জোরে সব কিছু করছেন।

    তাহলে সাইফুল ইসলাম সজীবের একাধিক অপরাধের খুটির জোর কোথায়..? শত অপরাধ করে সাজা প্রাপ্ত আসামী যদি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তার ক্ষমতার অপ্রব্যবহার করে তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাড়াবে?

    সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তোভোগীরা সাইফুল ইসলাম সজিবের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী তুলেছেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন