মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ভোট কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, পদত্যাগে অস্বীকৃতি মমতার বাংলাদেশ অধ্যায়ের ইতি টেনে আবেগঘন বিদায় বার্তা দিলেন কোচ ক্যাবরেরা ১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা ঘটনায় পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক, ফেসবুকে ভিডিওতে নিজেকে নির্দোষ দাবি এভারটনের কাছে ড্র করে শিরোপার সমীকরণে পিছিয়ে গেল ম্যানচেস্টার সিটি, এগিয়ে আর্সেনাল রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা, শিগগিরই আসতে পারে নতুন সূচি বিজেপির উত্থান, মমতার দুর্গে ফাটল সংগ্রাম থেকে শাসনক্ষমতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের গল্প একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় রিট শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারক প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রাজনৈতিক ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • রয়টার্সের প্রতিবেদন

    বাংলাদেশের শস্য আমদানির বড় অংশ দখলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশের শস্য আমদানির বড় অংশ দখলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক শস্য ও তেলবীজ বাজারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে শস্য ও কৃষিপণ্য আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে, যা পরস্পরের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো এশিয়ার বাজারের একটি বড় অংশ হারাতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বাণিজ্য চুক্তি কেবল আমদানিকর্তাদের সুবিধা নয়, বরং বৈশ্বিক কৃষিপণ্যের দাম ও সরবরাহকেও প্রভাবিত করবে।

    ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ তাদের রপ্তানি পণ্যে শুল্ক কমানোর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্ধিত কৃষিপণ্য কেনার বিষয়ে একমত হয়েছে। আঞ্চলিক শস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডও খাদ্যশস্য ক্রয় বাড়াতে পারে।

    সিডনির আইকন কমোডিটিজের পরিচালক ওলে হাউ বলেন, ‘মার্কিন কৃষি রপ্তানি এশিয়ায় স্পষ্টভাবে বাজার দখল করতে চলেছে। বাণিজ্য চুক্তিগুলো একদিকে চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে মার্কিন গম, ভুট্টা ও সয়ামিলের কম দামও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটা প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারকদের চেয়ে সস্তা।’

    এশিয়া প্রধান খাদ্য আমদানিকারক অঞ্চল এবং এটি বৈশ্বিক সরবরাহকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার। জনসংখ্যা ও আয় বাড়ায় এই অঞ্চলে খাদ্যপণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গম, ভুট্টা ও সয়ামিল আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ এশিয়ায় উৎপাদন হয়ে থাকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন শস্যের এই ঢেউ প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য মূল্য কমাতে বাধ্য করবে। সেই সঙ্গে নতুন বাজার খুঁজতে গিয়ে দীর্ঘ দূরত্বে শস্য পরিবহনের খরচও বাড়বে।

    গত দশকে কৃষ্ণসাগর ও দক্ষিণ আমেরিকার সরবরাহকারীরা এশিয়ার বাজারে অবস্থান শক্ত করেছে। ইন্দোনেশিয়ার গম-ময়দা উৎপাদক সমিতির তথ্য অনুসারে, গত পাঁচ বছরে ইন্দোনেশিয়ায় ইউক্রেন, রাশিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে আমদানি বাড়ায় মার্কিন গমের হিস্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

    সিঙ্গাপুরের দুজন শস্য ব্যবসায়ী জানান, ইন্দোনেশিয়ার আটা-ময়দার কলগুলো গত জুলাই থেকে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টন মার্কিন গম কিনেছে। দেশটির অ্যাসোসিয়েশনটি শুল্ক কমানোর আলোচনার অংশ হিসেবে বছরে ১০ লাখ টন মার্কিন গম কেনার জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় ছয় লাখ ৯৩ হাজার টন গম বেচেছে। অস্ট্রেলিয়া সাধারণত ইন্দোনেশিয়ার চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ গম সরবরাহ করে। তবে নতুন চুক্তির কারণে কয়েক লাখ টন বিক্রয় হারাতে পারে দেশটি।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৩০ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টন মার্কিন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো গম কেনা হয়নি। গত ২০ জুলাই বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে বছরে সাত লাখ টন মার্কিন গম আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
    ভিয়েতনাম পশুখাদ্যের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বাজার। দেশটি মার্কিন গম, ভুট্টা ও সয়ামিল আমদানি করবে। গত জুনে ভিয়েতনামের কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, সেখানকার ফার্মগুলো ২০০ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার জন্য সমঝোতা স্মারকে সই করবে। এর মধ্যে আইওয়া থেকে ৮০ কোটি ডলারের পণ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে– ভুট্টা, গম, শুকনো শস্য (মূলত পশুখাদ্য) ও সয়াবিন খাবার।

    দুজন সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যবসায়ীর মতে, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন মার্কিন ভুট্টার প্রধান আমদানিকারক হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। একজন ব্যবসায়ী জানান, থাইল্যান্ড কৃষ্ণসাগরের ফিড গম এবং এশিয়ার ভুট্টার বিকল্প হিসেবে ১০ লাখ টনের বেশি মার্কিন ফিড ভুট্টা কিনতে পারে।

    মার্কিন সয়াবিন রপ্তানি কাউন্সিলের আঞ্চলিক পরিচালক টিমোথি লোহ বলেন, ‘ফলপ্রসূ বাণিজ্য আলোচনা হয়েছে, এটা আমাদের অঞ্চলে মার্কিন পণ্যের বাজারকে শক্তিশালী করার সুযোগ এনে দিয়েছে।’
    বর্তমানে কিছু মার্কিন কৃষিপণ্য অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। এই সপ্তাহে মার্কিন নরম সাদা গম প্রতি টন প্রায় ২৮০ ডলার মূল্যে বেচা হয়েছে, যা একই মানের কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গমের সমান। মার্কিন ভুট্টা দক্ষিণ আমেরিকার পণ্যের চেয়ে প্রতি টনে ১০-১৫ ডলার কম। এ ছাড়া মার্কিন সয়ামিল প্রতিদ্বন্দ্বী সরবরাহকারীদের তুলনায় পাঁচ ডলার ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে।

     


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন