ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলি বাহিনী

গাজা শহরের উপকণ্ঠে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১২ সেনা হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু। নিহত হয়েছেন একজন সেনা, আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। পাশাপাশি সংঘর্ষের পর থেকে চার সেনার খোঁজ মিলছে না বলে ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানায়, ইসরায়েলিরা শহর দখলের চেষ্টা করার সময় শুক্রবার গভীর রাতে গাজা শহরের বাইরের এলাকায় বিমান হামলা চালায় এবং ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করে। পরে পাল্টা আক্রমণে তীব্র লড়াই শুরু হয়।
রোয়া নিউজের মতে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এই লড়াইকে ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালের পর সবচেয়ে গুরুতর লড়াইগুলোর মধ্যে একটি বলে বর্ণনা করেছে। যদিও, সরকারি সূত্রগুলো এই হতাহতের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি।
বেশ কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজ কিছু সেনা হামাসের হাতে ধরা পড়তে পারে। এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে আইডিএফ।
হামাসের আল-কাসসাম ব্রিগেড টেলিগ্রামে এক পোস্টে লিখেছে, ‘যারা ভুলে যায়, মৃত্যু অথবা বন্দী, আমরা তাদের স্মরণ করিয়ে দেই।’
নিবিড় হেলিকপ্টার উড্ডয়ন, অগ্নিসংযোগ এবং যুদ্ধের শব্দের ফুটেজ দেখে বোঝা যায় যে সেনাবাহিনী হয়তো "হানিবল প্রোটোকল" সক্রিয় করেছে - যা সেনাদের বন্দী করা রোধ করার জন্য তৈরি একটি বিতর্কিত মতবাদ।
বৃহস্পতিবার হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবাইদার কঠোর বক্তব্যের পর এই ঘটনা ঘটলো। আবু ওবাইদা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গাজা দখলের ইসরায়েলি পরিকল্পনা তেল আবিবের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের জন্য বিপর্যয়কর প্রমাণিত হবে। যুদ্ধ পরিস্থিতি সেনাদের বন্দী করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিবে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি বন্দীরা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, ইসরায়েলি হামলায় নিহত যে কোনো জিম্মির নাম, ছবি এবং মৃত্যু সনদ প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হবে।
ইসরায়েলের বর্তমান আক্রমণগুলো অপারেশন গিডিয়োন ২-এর অংশ, যা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ২১ আগস্ট গাজা শহর দখলের জন্য অনুমোদন করেন। দুই সপ্তাহ আগে জেইতুন পাড়ায় শুরু হওয়া বৃহৎ আকারের আক্রমণের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রয়েছে উপত্যকায়।