মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

যশোরের তিনটি উপজেলার মানুষের দুঃখ ভবদহ স্লুইজ গেট

যশোরের তিনটি উপজেলার মানুষের দুঃখ ভবদহ স্লুইজ গেট
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

যশোর সদরের কিছু অংশ মনিরামপুর,অভয়নগর, কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ এলাকা গঠিত। ভবদহ বছরের প্রায় ৬ মাসই থাকে জলাবদ্ধতা কেবল একটি ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি বহু মানুষের হতাশা।

ভবদহ অঞ্চলের মানুষের একটাই অভিযোগ, আমরা এমপি-মন্ত্রী চাই না, শুধু ভবদাহের জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী ভাবে মুক্তি চাই। তখন এর মধ্য দিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা বঞ্চনা আর অবহেলার তীব্রতা প্রকাশ পায়। এই উক্তি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি প্রকৃতির হাতে অসহায় এক জনগোষ্ঠীর প্রাণের আকুতি।

যশোরের মণিরামপুর ও অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার হঠাৎ আগাম বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা পাকা ধানক্ষেত। 

ভবদহের মানুষের বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে আছে। প্রতিবার নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা আসেন, বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন। নদী খনন, স্লুইস গেট সংস্কার, টিআরএম (জোয়ার-ভাটাভিত্তিক পলি ব্যবস্থাপনা) প্রকল্পের কথা বলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আর বাস্তবায়িত হয় না। বছরের পর বছর এই চক্র চলতে থাকায় মানুষের মনে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি এক গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কোনো কাজে আসছে না। 

স্থানীয়রা আরো বলেন, তাদের কাছে এখন জনপ্রতিনিধি নয়, বরং সমস্যার সমাধানটাই মুখ্য।ভবদাহের জলাবদ্ধতা মানুষের জীবনকে সবদিক থেকে পঙ্গু করে দিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে তারা চরম সংকটে ভুগছে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে ধান, পাট, সবজি—কোনো ফসলই ঠিকমতো উৎপাদন করা যায় না। কৃষকরা তাদের সারা বছরের কষ্টার্জিত ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখেছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, যা মৎস্যজীবীদের জীবনধারণের একমাত্র অবলম্বন।

শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যাও প্রকট। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুদের স্কুল বন্ধ থাকে, কারণ রাস্তাঘাট সব ডুবে যায়। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। মানুষ বাধ্য হয়ে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বা উঁচু স্থানে চলে যায়, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করে।

এই পরিস্থিতিতে তারা বুঝতে পারে যে তাদের আসল যুদ্ধ প্রকৃতির সঙ্গে নয়, বরং অবহেলা আর অব্যবস্থাপনার সঙ্গে।ভবদাহের মানুষের দাবি খুব স্পষ্ট তারা কোনো ত্রাণ বা সাময়িক সাহায্য চান না। তারা চান একটি স্থায়ী সমাধান, যা তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মুক্তি দেবে। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম প্রকল্পের বিকল্প নেই।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ভবদহের ২১ ভেন্টের ছয়টি গেট দিয়ে পানি বের হচ্ছে। আমডাঙ্গা খাল দিয়েও কিছুটা পানি বের হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ভবদহে ৮১ কিলোমিটার নদী কাটার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া আমডাঙ্গা খালের ইউড্রেন (ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থা) প্রকল্প শিগগিরই শুরু হবে।
 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন