ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত সার্জিও গোর

হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্সিয়াল পারসোনেল অফিসের পরিচালক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সার্জিও গোরকে ভারতের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ৩৮ বছর বয়সী গোর এই দায়িত্বের পাশাপাশি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূতের পদও বহন করবেন। শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই মনোনয়নের খবর নিশ্চিত করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সার্জিও বহু বছর ধরে আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহচর। আমার ঐতিহাসিক নির্বাচনী প্রচারাভিযানে তিনি কাজ করেছেন, আমার বই প্রকাশ করেছেন, এমনকি আমাদের আন্দোলনকে সমর্থনকারী অন্যতম বড় রাজনৈতিক তহবিলও পরিচালনা করেছেন। বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল অঞ্চলে আমার একজন বিশ্বস্ত দূত প্রয়োজন ছিল। সার্জিও হলেন সেই মানুষ।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘সার্জিও একজন চমৎকার বন্ধু, যিনি বহু বছর ধরে আমার পাশে আছেন। আমার নির্বাচনী প্রচারণায়ও কাজ করেছেন। তিনি আমার সর্বাধিক বিক্রিত বই প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তহবিলও পরিচালনা করেছেন।’
ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার মনোনয়ন যতক্ষণ সিনেট অনুমোদন না করছে, ততক্ষণ গোর হোয়াইট হাউজের দায়িত্বেই থাকবেন। গোরের মনোনয়নের প্রেক্ষাপটও তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কার্যকর, আর ২৮ আগস্ট থেকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসতে চলেছে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নয়াদিল্লিতে গোরের অভিষেককে অনেকেই ট্রাম্পের কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখছেন। ওয়াশিংটনের এক শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, ‘সার্জিয়োর নিয়োগ মানে নয়াদিল্লি এখন সরাসরি প্রেসিডেন্টের বার্তা শুনবে।’
মনোনয়নের পর এক্স-এ গোর লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের আস্থা ও বিশ্বাস আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান। ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গৌরব।’
এরিক গারসেট্টির স্থলাভিষিক্ত হবেন সার্জিয়ো গোর। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গারসেট্টি দিল্লিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। গোরের অভিষেকের মাধ্যমে শুধু নয়াদিল্লি নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত বার্তা আরও স্পষ্ট হলো।