মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা ঘটনায় পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক, ফেসবুকে ভিডিওতে নিজেকে নির্দোষ দাবি এভারটনের কাছে ড্র করে শিরোপার সমীকরণে পিছিয়ে গেল ম্যানচেস্টার সিটি, এগিয়ে আর্সেনাল রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা, শিগগিরই আসতে পারে নতুন সূচি বিজেপির উত্থান, মমতার দুর্গে ফাটল সংগ্রাম থেকে শাসনক্ষমতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের গল্প একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় রিট শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারক প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রাজনৈতিক ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে বিজেপি শেয়ারবাজারে অচলাবস্থা কাটাতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের দাবি ডিবিএ’র
  • স্টারলিংক ছাড়লেন কাইরান কাজী, এবার আর্থিক প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায়

    স্টারলিংক ছাড়লেন কাইরান কাজী, এবার আর্থিক প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায়
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মাত্র ১৪ বছর বয়সে ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের স্টারলিংক প্রকল্পে যোগ দিয়ে নজর কাড়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোর কাইরান কাজী। দুই বছর সফলভাবে স্টারলিংকে কাজ করার পর এবার তিনি নতুন চ্যালেঞ্জে পা রাখছেন।

    কাইরান কাজী এখন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটাডেল সিকিউরিটিজ-এ কোয়ান্ট ডেভেলপার হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এখানে তিনি তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং অ্যালগরিদমিক প্রোগ্রামিং-এ পারদর্শিতা প্রদর্শন করবেন।

    তরুণ এই প্রতিভার কর্মজীবন শুরু হয়েছে অল্প বয়সেই, যা তাকে বিশ্বের প্রযুক্তি ও অর্থনীতির অগ্রভাগে নিয়ে গেছে। কাইরান কাজীর এই যাত্রা প্রমাণ করে, বয়স কখনোই দক্ষতা ও উদ্ভাবনের পথে বাধা নয়।

    কাইরান কাজীর বয়স এখন ১৬ বছর। ১৪ বছর বয়সে সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করার পর সে স্পেসএক্সে যোগ দিয়েছিল। কাইরান বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রকৌশলীদের একজন।

    এই কিশোর প্রকৌশলী এবার কোয়ান্টিটেটিভ ফাইন্যান্সে তার অনন্য প্রতিভা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা দেখাতে চলেছেন। পেশা জগতে বয়সভিত্তিক পক্ষপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠাই হচ্ছে তার উদ্দেশ্য।

    Who is Kairan Quazi? 16-year-old teen engineer leaving Elon Musk's SpaceX  for Citadel Securities | - The Times of India

    কাইরান কাজীর অসাধারণ যাত্রা শুরু হয় মাত্র ১৪ বছর বয়সে সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে। সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ১৭০ বছরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ স্নাতক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। এটি তার ব্যতিক্রমী বুদ্ধিমত্তা, একাগ্রতা ও চাপের মধ্যে সফল হওয়ার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

    কাইরান কাজীর বাবা মুস্তাহিদ কাজী কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং মা জুলিয়া কাজী ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করা একজন আর্থিক পেশাজীবী। অর্থাৎ কাইরানের জন্ম এমন একটি পরিবারে, যেখানে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আর্থিক কৌশল মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

    এ ছাড়া একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন হিসেবে বেড়ে ওঠার কারণে কাইরান কাজী সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষাগত প্রত্যাশার একটি অনন্য মিশ্রণের সঙ্গে শৈশবেই পরিচিত হয়।

    এসবের প্রভাবে ছোটবেলা থেকেই গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির প্রতি কৌতূহলী হয়ে ওঠে ছোট্ট কাইরান, যা তার অসাধারণ অর্জনের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

    কাইরান কাজীর শিক্ষাজীবন অন্য সব শিশুর মতো ছিল না। সে তার সহপাঠীদের চেয়ে অনেক আগে কলেজে লেখাপড়া শুরু করে এবং মাত্র ১১ বছর বয়সে লাস পোসিটাস কলেজ থেকে গণিতে অ্যাসোসিয়েট অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করে।

    ২০২৩ সালে সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করে কাইরান কাজী। প্রতিষ্ঠানটির ১৭০ বছরের ইতিহাসে সে–ই হচ্ছে সর্বকনিষ্ঠ স্নাতক।

    শুধু শিক্ষাগত অর্জনের ক্ষেত্রেই নয়; বরং সেখানে সে নেতৃত্বের গুণাবলিও প্রদর্শন করেছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সে অ্যাসোসিয়েটেড স্টুডেন্ট গভর্নমেন্টের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। সে ক্যাম্পাসে নানা উদ্যোগে অংশ নিয়েছে এবং ছাত্র–নেতৃত্বাধীন প্রকল্পগুলোর প্রচার করেছে।

    মাত্র ১৪ বছর বয়সে সাহসী এক পদক্ষেপ নেয় কাইরান কাজী। একজন প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেয় মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের স্টারলিংকে।

    Meet Kairan Quazi, the youngest SpaceX engineer | Lifestyle Asia India

    স্টারলিংক প্রকল্পে তার কাজের মধ্যে ছিল জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে সংস্থাটির বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখা।

    স্পেসএক্সে কাইরান কাজীর ভূমিকা তাকে প্রযুক্তি খাতে অন্যতম কম বয়সী প্রকৌশলী রূপে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও স্বীকৃতি এনে দিয়েছে এবং দেখিয়েছে যে বয়স কম হলেও উদ্ভাবনের সর্বোচ্চ স্তরের কাজ করার কতটা ক্ষমতা সে রাখে।

    কাইরান কাজী শুধু একজন শিশু প্রতিভাবান নয়, সে একজন পথপ্রদর্শকও। সে দেখিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই অভিজ্ঞতা, কৌতূহল এবং দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে কী কী অর্জন করা যেতে পারে।
    ২০২৫ সালে কাইরান কাজী তার মনোযোগ মহাকাশ প্রকৌশল থেকে আর্থিক প্রযুক্তি খাতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে নিউইয়র্ক নগরভিত্তিক একটি শীর্ষ কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সিটাডেল সিকিউরিটিজে কোয়ান্ট ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেয়।

    এখানে সে প্রকৌশল ও পরিমাণগত সমস্যা সমাধানের সংযোগস্থলে কাজ করবে এবং ট্রেডার এবং প্রকৌশলীদের সঙ্গে সহযোগিতা করে বৈশ্বিক ট্রেডিং ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কাজ করবে।

    অসাধারণ দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কাইরান কাজীকে বয়সের কারণে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রখ্যাত ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘ভোগ’–এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কাইরান বলেছিল, সে পুরোনো ধ্যানধারণার প্রাপ্তবয়স্কতাবাদ এবং এ ধরনের নিয়োগ সংস্থা থেকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তারা প্রতিভার চেয়ে বয়সকে বেশি গুরুত্ব দিত।

    কাইরানের জীবনবৃত্তান্তে তার নানা অর্জনের কথা লেখা থাকত। এর পরও অনেক নিয়োগকর্তা তার বয়সকে তার যোগ্যতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতেন।

    কাইরান কাজীর পেশাগত খাতে যাত্রা একটি বিস্তৃত সমস্যা তুলে ধরেছে। সেটা হলো, বয়স বা অভিজ্ঞতার প্রচলিত প্রত্যাশার চেয়ে দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া কতটা জরুরি।

    কাইরান কাজী শুধু একজন প্রতিভাবান শিশু নয়, সে একজন পথপ্রদর্শকও। সে দেখিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই অভিজ্ঞতা, কৌতূহল ও দৃঢ়সংকল্পের মাধ্যমে কী কী অর্জন করা যেতে পারে।

    ১৪ বছর বয়সে কলেজ থেকে স্নাতক পাস করা থেকে শুরু করে স্পেসএক্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এবং এখন সিটাডেল সিকিউরিটিজে কোয়ান্টিটেটিভ ফাইন্যান্সে পদার্পণ করা—তার যাত্রা বিশ্বজুড়ে কমবয়সী উদ্ভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

    কাইরান কাজী প্রমাণ করেছে, প্রতিভা এবং অধ্যবসায়ের সংমিশ্রণ কীভাবে প্রচলিত নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এবং উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে তরুণ পেশাজীবীদের জন্য সম্ভাবনার ধারণা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন