শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশের ১৪ ফল এখন জিআই স্বীকৃত, খুলছে নতুন বাজার জীবনের জটিল সমীকরণ নিয়ে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’, প্রকাশ্যে ট্রেলার ১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অগ্রগতি, পদায়ন ও যোগদান নিয়ে বৈঠক রোববার প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রশংসায় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত রোমে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত জর্ডানের বিপক্ষে মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনার চমক বিশ্বের দূষিত বাতাসের তালিকায় শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার বায়ুমান ‘সহনীয়’ ৬ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ভারত ভ্রমণের প্রস্তুতি? জেনে নিন কোন ৫ কেন্দ্রে মিলবে ট্যুরিস্ট ভিসা দেশে আবারও বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে যোগ হলো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা
  • অবৈধ অভিবাসনের মরীচিকা ও বেদনাদায়ক বাস্তবতা

    অবৈধ অভিবাসনের মরীচিকা ও বেদনাদায়ক বাস্তবতা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    প্রতিনিয়তই আমরা এমন করুণ কাহিনি শুনি, যেখানে কেউ নিজের জীবনের সঞ্চয়, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ সবকিছু উৎসর্গ করে বিদেশে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পা বাড়ায়, অথচ শেষমেশ খালি হাতে ফিরে আসে। সিলেটের আলমগীর চৌধুরী, নোয়াখালীর জায়েদ হাসান, এমন অসংখ্য তরুণের জীবনে যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার স্বপ্ন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। কোটি কোটি টাকা খরচ, মাসের পর মাস জঙ্গল, নদী, পাহাড় পাড়ি দিয়ে প্রাণহানির ঝুঁকি নেওয়া, আর শেষমেশ দীর্ঘ বন্দিজীবন শেষে দেশে ফেরত আসা এ এক ভয়াবহ বাস্তবতা।

    যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে অভিবাসন নীতি দিন দিন কঠোর হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশকারীদের অনেকেই ‘আশ্রয় আবেদন’-এর সুযোগ পেলেও, অধিকাংশের আবেদন আদালতে খারিজ হয়ে যায়। কারণ, আশ্রয়ের শর্ত শুধুমাত্র দারিদ্র্য বা বেকারত্ব নয় বরং নিজ দেশে প্রাণনাশ, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নিপীড়নের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকতে হয়। কিন্তু দালালরা এই আইনি বাস্তবতা গোপন রেখে তরুণদের রিফিউজি হওয়ার স্বপ্ন দেখায়। ফলাফল, আর্থিক সর্বনাশ, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, আর সামাজিক অপমান।

    ২০২৪ সালের জাতিসংঘের তথ্যমতে, এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় আবেদন করেছেন, যা প্রতি বছরই বাড়ছে। অথচ এদের বড় অংশই অবৈধ পথে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন। অনেকে নদী ও মরুভূমি পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারান, কেউ আবার বন্দিজীবনের শিকার হন।

    আমাদের সমাজে বিদেশযাত্রা নিয়ে অযৌক্তিক উন্মাদনা ও ‘সফল প্রবাসী’ হওয়ার সামাজিক চাপ তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে। পরিবারও প্রায়শই এই ঝুঁকি অনুমোদন করে, ভাবছে একবার বিদেশে পৌঁছালে আর্থিক উন্নতি নিশ্চিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা বৈধ পথে যান, দক্ষতা ও আইনি অবস্থান নিশ্চিত করে যান, তাদের জন্য বিদেশে সাফল্যের সুযোগ অনেক বেশি।

    সরকারেরও উচিত এই ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা এবং জনগণকে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে সচেতন করা। একই সঙ্গে দেশে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোই এই ‘মরীচিকা যাত্রা’ কমানোর মূল উপায়।

    প্রত্যেক তরুণের মনে রাখা উচিত, বিদেশ মানেই সুখের নিশ্চয়তা নয়, আর অবৈধ অভিবাসন মানেই এক অজানা অনিশ্চয়তা। জীবনকে বিপন্ন করে নয়, বরং দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রাই হতে পারে সাফল্যের একমাত্র সঠিক পথ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন