বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের মজুত বাড়াচ্ছে সরকার

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের মজুত বাড়াচ্ছে সরকার
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে কৌশলগত জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা ধাপে ধাপে ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিলেও যাতে দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বর্তমান ৬০ দিনের মজুত সক্ষমতা বাড়িয়ে ৭১ দিনে উন্নীত করা হবে। এরপর ২০২৭ সালের মধ্যে তা ৯০ দিনে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যমান ডিপো সম্প্রসারণ এবং বিকল্প সংরক্ষণ সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে এ সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী দেশে ৬০ দিনের কৌশলগত তেল মজুতের বিধান থাকলেও বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সেটি ৯০ দিনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের, যার বার্ষিক প্রয়োজন প্রায় ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন।

বর্তমানে বিপিসির অধীন ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার টনের বেশি। এর মধ্যে কিছু সংরক্ষণাগার সংস্কারের কাজ চলছে। বর্তমানে ডিজেলের ৫৭ দিন, ফার্নেস অয়েলের ৭৮ দিন, অকটেনের ৪৬ দিন এবং পেট্রোলের ২৯ দিনের মজুত সক্ষমতা রয়েছে।

মজুত বাড়াতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ট্যাংকও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআরটিসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সংরক্ষণাগার ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যাংক পুনর্ব্যবহার এবং কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের অব্যবহৃত ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।

এ ছাড়া পার্বতীপুরে নতুন ডিপো চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের সংরক্ষণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা, ভৈরব ও সিলেটেও নতুন ডিপো ও সংরক্ষণ ট্যাংক নির্মাণ বা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের অতিরিক্ত সংরক্ষণ সুবিধা ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, অচল ট্যাংক পুনরায় চালু করা এবং সরকারি-বেসরকারি সংরক্ষণ সুবিধার সমন্বিত ব্যবহার দ্রুত মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী উপায় হতে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন