শান্তি চুক্তির পরও বাড়ছে তেলের দাম, কারণ কী?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। দিনের শুরুতে দাম কমলেও পরে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বাজারে এখনও সংশয় রয়েছে। ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় আছে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই উত্তেজনার কারণে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নির্ধারিত একটি বৈঠকও স্থগিত করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
তেল পরিবহন পরিস্থিতিতেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে। সৌদি আরবের কয়েকটি সুপার ট্যাঙ্কার এবং বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে আগের তুলনায় নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনও অনেক কম।
বিশ্ববাজারের এই অনিশ্চয়তার প্রভাব এশিয়ার শেয়ারবাজারেও পড়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে দিনের শুরুতে উত্থান দেখা গেলেও পরে বড় ধরনের ওঠানামা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা