৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে

কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর রাজধানী ঢাকায় স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হলেও নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। কোথাও কোথাও পানি জমে যানবাহন চলাচলেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীতে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বেলা ১১টায় আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সকাল থেকেই ঢাকার মিরপুর, পল্টন, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়। এতে অনেক সড়কে পানি জমে যায়। জমে থাকা পানির মধ্যেই বাস, রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর কবরস্থানমুখী নিউমার্কেটের সামনের সড়ক এবং ঢাকা কলেজের সামনের সড়কে পানি জমেছে। কোথাও কোথাও সড়কে জমে থাকা পানির কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে। যানবাহনের চাকার চাপে জমে থাকা পানি ছিটকে পথচারীদের শরীরেও পড়তে দেখা গেছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় সড়কে অফিসগামী মানুষের চাপ কম ছিল। তবে জীবিকার প্রয়োজনে বের হওয়া শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষকে বৃষ্টির মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেকেই সড়কে জমে থাকা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
২৪ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে।
অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশেও মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে।
আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে রাজধানীতে আবারও বৃষ্টি হলে নিচু এলাকার সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।