বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • কমছে না হাম-ডেঙ্গুর চাপ, শিশু হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে যাত্রীর মৃত্যুতে মাসকাটে জরুরি অবতরণ, অনিশ্চিত পরবর্তী যাত্রা শফিকুর রহমানের সঙ্গে ডাচ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, আলোচনায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতিতে অস্বস্তি শান্তি ও মানবতার বার্তায় চট্টগ্রামে জশনে জুলুস ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৫ জেলে, তদারকি করছেন চিফ হুইপ বাংলাদেশকে হারাতে এমন পিচ বানানো হয়েছে, অভিযোগ গাভাস্কারের যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক কানাডার চার খুনের ঘটনায় সীমান্তের জবানবন্দি, আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিল
  • রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতিতে অস্বস্তি

    রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতিতে অস্বস্তি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ করেছে বাংলাদেশ। বৈদেশিক খাতে এই স্বস্তির বিপরীতে রপ্তানি আয় প্রায় স্থবির থাকা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে নতুন কিছু চাপও তৈরি হয়েছে।

    অর্থবছর শেষে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২৭ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য আনতে সহায়তা করেছে। তবে মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ, রপ্তানির স্থবিরতা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং রাজস্ব ও সরকারি ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা এখনো অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: এপ্রিল-জুন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার তুলনায় এ হার এখনো কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ব্যালান্স অব পেমেন্টসে বড় উদ্বৃত্ত

    গত অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক ব্যালান্স অব পেমেন্টসে ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে সামগ্রিক উদ্বৃত্ত বেড়েছে প্রায় ৯৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

    এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে রেমিট্যান্স। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। শুধু এপ্রিল-জুন প্রান্তিকেই রেমিট্যান্স এসেছে ৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

    রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও। জুন শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক হিসাবপদ্ধতি BPM6 অনুযায়ী জুন শেষে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার।

    বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি

    বৈদেশিক খাতে স্বস্তির মধ্যেও বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে বাণিজ্য ঘাটতি। গত অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ২৭ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    এ সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় দশমিক ২৫ শতাংশ কম। বিপরীতে আমদানি ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৭১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

    পুরো বছরের রপ্তানি চিত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৪৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি মাত্র দশমিক ১৭ শতাংশ। সরকারের নির্ধারিত ৫৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যের তুলনায় রপ্তানি কম হয়েছে ১২ দশমিক ০৪ শতাংশ।

    তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানিতে কিছুটা গতি ফেরে। ওই মাসে রপ্তানি আয় ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তবে পুরো বছরের দুর্বল প্রবৃদ্ধি কাটিয়ে ওঠার জন্য এই বৃদ্ধি যথেষ্ট হয়নি।

    অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানির মোট মূল্য ১০ দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে খাদ্যশস্য, মধ্যবর্তী পণ্য ও মূলধনী পণ্যের আমদানি বেড়েছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ ও ৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

    কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ

    বৈদেশিক খাতে আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে নিট এফডিআই কমে ১ দশমিক ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে নিট এফডিআই ছিল ১ দশমিক ৭২৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১৫ দশমিক ০২ শতাংশ।

    এফডিআই কমে যাওয়াকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতের আস্থার সংকট কাটানোর প্রয়োজন রয়েছে।

    মূল্যস্ফীতি কমলেও স্বস্তি নেই

    এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির চাপকেও বড় উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জুনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে।

    তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও জ্বালানির দামের চাপ এখনো মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলছে। ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আসেনি।

    সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশের অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের কিছু লক্ষণ দেখা গেলেও এই ধারাকে টেকসই করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা জরুরি।

    সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে রপ্তানি আয় না বাড়া, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও এফডিআই কমে যাওয়ায় এই স্বস্তি এখনো পুরোপুরি টেকসই হয়নি। অর্থনীতির পরবর্তী ধাপে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ