বাংলাদেশকে হারাতে এমন পিচ বানানো হয়েছে, অভিযোগ গাভাস্কারের

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট মাত্র দুই দিনেই শেষ হওয়ায় ম্যাকাইয়ের পিচ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার সুনীল গাভাস্কার। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন ফলাফল হলে যে ধরনের সমালোচনা দেখা যায় না, ভারতে টেস্ট তিন দিনের মধ্যে শেষ হলে পিচ ও ভারতীয় ক্রিকেটকে ঘিরে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দুই ইনিংসেই একশ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাও খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না। স্বাগতিকদের হয়ে ক্যামেরন গ্রিনের ৬৭ রানই ছিল ম্যাচের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২১০ রানে।
শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। মাত্র দুই দিনেই শেষ হওয়া ম্যাচটি টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নেয়।
এমন ফলাফলের পেছনে ম্যাকাইয়ের উইকেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কার। স্পোর্টস্টারে প্রকাশিত নিজের কলামে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গত কয়েক বছরে চারটি টেস্ট দুই দিনের মধ্যে শেষ হলেও সেখানকার অতিরিক্ত বাউন্সি পিচ নিয়ে তেমন সমালোচনা শোনা যায়নি।
গাভাস্কারের ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আরও একটি টেস্ট ম্যাচ দুই দিনের মধ্যে শেষ হয়ে গেল। গত কয়েক বছরে সেখানে চারবার এমনটা ঘটেছে। অথচ যে ট্র্যাম্পোলিনের মতো বাউন্সি পিচগুলো এ ধরনের ফলাফল তৈরি করছে, সেগুলোর কোনো সমালোচনাই এখনও শুনতে পেলাম না।’
পিচের অতিরিক্ত বাউন্সের পেছনে নানা অজুহাত দাঁড় করানো হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ভারতের সাবেক এই ব্যাটার। তার মতে, কিউরেটর আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী পিচে বেশি ঘাস রেখেছিলেন—এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হতে পারে। আবার ব্যাটারদের টেকনিকের ঘাটতিকেও দায়ী করা হতে পারে।
তবে গাভাস্কারের প্রশ্ন, স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাই যখন উইকেটে স্বাচ্ছন্দ্যে রান করতে পারেননি এবং বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি, তখন পিচের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হারের পর ম্যাকাইয়ের পিচ এমন হবে, সেটি অনেকটাই অনুমেয় ছিল।
গাভাস্কার বলেন, প্রথম টেস্টের ফলের পর অস্ট্রেলিয়া এমন একটি উইকেট চেয়েছিল, যেখানে গতি ও বাউন্স থাকবে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত সরাসরি স্বীকার করা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেটীয় শক্তিধর দেশগুলোর ক্ষেত্রে পিচ প্রস্তুতিতে ভিন্ন ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন গাভাস্কার। তার দাবি, ভারত নিজেদের বোলিং শক্তির সঙ্গে মানানসই উইকেট চাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করলেও ‘পুরোনো শক্তিধর’ ক্রিকেট দেশগুলো নেপথ্যে থেকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী উইকেট তৈরির জন্য প্রভাব বিস্তার করে।
ম্যাকাইয়ের পিচ নিয়ে ম্যাচ রেফারি কী রিপোর্ট ও রেটিং দেন, সেটিও দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন গাভাস্কার। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের পিচ নেতিবাচক রেটিং না পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
ভারতে কোনো টেস্ট তিন দিনের মধ্যে শেষ হলেই পিচ, বিসিসিআই ও ভারতীয় ক্রিকেটকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়—এমন দাবি করে গাভাস্কার বলেন, দুই পরিস্থিতিতে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখানো এক ধরনের ‘ভণ্ডামি নীতি’।