বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

বিদায় চৈত্র, স্বাগতম নতুন বছর

বিদায় চৈত্র, স্বাগতম নতুন বছর
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আজ ৩০ চৈত্র, বাংলা বছরের শেষ দিন— চৈত্র সংক্রান্তি। পুরোনো বছরের ক্লান্তি, গ্লানি ও জীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে বরণ করার প্রস্তুতিতে রয়েছে বাঙালি।

চৈত্রের প্রখর রোদ, ঝরা পাতার শব্দ আর বিদায়ের আবহে মিশে থাকে এক ধরনের নীরব বিষণ্নতা। তবে সেই সুরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন বছরের আগমনী বার্তা ও আশাবাদ।

গ্রামবাংলায় চৈত্র সংক্রান্তি সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে নানা লোকজ আয়োজনে। ঘরে ঘরে নিরামিষ রান্না, ঐতিহ্যবাহী ১৪ শাক ও ছাতু খাওয়ার প্রচলন, পুরোনো হিসাব-নিকাশ মিটিয়ে নতুন বছরের হালখাতা খোলার প্রস্তুতি— সবকিছুই নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এদিন শিবপূজা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করেন। অন্যদিকে দেশের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী নিজস্ব ঐতিহ্যে কয়েক দিনব্যাপী উৎসবের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।

নগরজীবনের ব্যস্ততায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্য এখনো বহমান। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসেছে বৈশাখী মেলা। যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত এবং গ্রামীণ খেলাধুলায় মুখর হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে লোকশিল্প প্রদর্শনী, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ। পাশাপাশি মঞ্চস্থ হচ্ছে জনপ্রিয় যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

চৈত্র সংক্রান্তি শুধু একটি বর্ষবিদায়ের দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ ও ঐতিহ্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। বিদায়ের বিষাদ আর নতুনের আনন্দ মিলিয়েই এই দিন বারবার ফিরে আসে বাঙালির জীবনে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন