আলোচনা ছাড়াই ৮ অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আরও ৮টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই কণ্ঠভোটে অনুমোদন দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে পাস হওয়া মোট ৯টি বিলের বিষয়ে সংসদের বিশেষ কমিটি এগুলো হুবহু অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশোধন বিল উত্থাপন করে আইনমন্ত্রী জানান, এতে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুম’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা গুমকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ করছেন, তাদের এই আইনটি ভালোভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। সরকারের গুমবিরোধী অবস্থান এই আইনে প্রতিফলিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিলটি পাস হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে আইনমন্ত্রীর মন্তব্যকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন এবং বিষয়টি নির্ধারিত সময়ে আলোচনার দাবি জানান।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে বাইরে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং আইনবিধি অনুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করেন।
এদিন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ উত্থাপন করলে সেটিও কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এছাড়া আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে ফৌজদারি কার্যবিধি, সিভিল কোর্টস, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সংশোধনী বিল উত্থাপন করেন—সবগুলোই পাস হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কয়েকটি সংশোধনী বিলও পাস হয়েছে, যেগুলো মূলত নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলগুলো উত্থাপন করেন।
তবে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন বিল’ উত্থাপন করা হলেও তা পরবর্তী আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।
সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে দ্রুত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংসদে একের পর এক বিল পাস করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।