হামের টিকাদান কর্মসূচির তারিখ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে বেশ কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে টিকার অপ্রাপ্তি।
তবে এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, ইউনিসেফের সহযোগিতায় হামের টিকা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যে টিকা ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে সারা দেশে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় হামের সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকায় আগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। অতীতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাম মোকাবিলায় সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা ইউনিসেফের সহায়তায় টিকা কেনার জন্য ব্যয় করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর ও শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে সারা দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশু এই টিকার আওতায় আসবে।
এছাড়া হাম, রুবেলা, পোলিও, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক রোগের টিকা সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্যাভি (Gavi) থেকে ২১.৯ মিলিয়ন ডোজ টিকা ধার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরে এসব টিকা কিনে সেই ধার পরিশোধ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। তাই সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
দেশব্যাপী এই টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে হামের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।